


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: টাকা দিয়েও ফ্ল্যাটের দখল পেতে বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হতে হয় ক্রেতাকে। আকছার এমন অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয় আম জনতাকে। এই হয়রানির হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দিতে নির্মীয়মাণ আবাসনের ওয়েস্ট বেঙ্গল রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটির (রেরা) অধীন রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার। তবে শুধু রেজিস্ট্রেশন করেই ফেলে রাখলে চলবে না। প্রত্যেক তিন মাস অন্তর রেরার নির্দিষ্ট পোর্টালে আবাসনের কাজের অগ্রগতির খতিয়ান দেওয়াও বাধ্যতামূলক। সূত্রের খবর, বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে রাজ্যের ৫৮২টি আবাসনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে এই ত্রৈমাসিক রিপোর্ট জমা পড়েনি। ফলে মোটা টাকার জরিমানার কোপ পড়তে চলেছে এই সমস্ত আবাসনের প্রোমোটার বা নির্মাণকারী সংস্থার উপর।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যের খাতায় নথিভুক্ত রয়েছে প্রায় চার হাজার আবাসন প্রকল্প। যাদের মধ্যে প্রত্যেক কোয়ার্টার বা ত্রৈমাসিক রিপোর্ট জমা পড়েছে প্রায় ২,০০০ আবাসনের ক্ষেত্রে। ফলে এই সমস্ত আবাসন নিয়ে কোনও সমস্যাই হওয়ার কথা নয় ক্রেতাদের। এছাড়াও, ১১১৩টি এমন আবাসন রয়েছে, যাদের বেশ কিছু ত্রৈমাসিকের রিপোর্ট জমা দেওয়া এখনও বাকি। তবে রাজ্যের নজরে রয়েছে বিশেষত ৫৮২টি আবাসনের উপর। যারা একটি ত্রৈমাসিকের রিপোর্টও জমা করেনি রাজ্যের ঘরে। ফলে এই আবাসনগুলির কাজের অগ্রগতি নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তাঁদের মোটা টাকার জরিমানার বিষয়টি জানিয়ে চিঠি এবং ই-মেল পাঠানো হচ্ছে বলেও সূত্রের খবর। কিন্তু, এই গাফিলতির জেরে কত টাকা জরিমানা হতে পারে? রেরার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রত্যেক ত্রৈমাসিকের শেষের দিন থেকে সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট তিন মাসের কাজের অগ্রগতির তথ্য পোর্টালে না তুললে, এককালীন ২৫ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। ফলে যতগুলি ত্রৈমাসিক রিপোর্ট জমা পড়বে না, ততবার ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা আরোপ করা হবে। ফলে এই ৫৮২টি ক্ষেত্রে জরিমানার অঙ্ক এক লক্ষ টাকা ছাড়াবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সূত্রে খবর, এই অনিয়মের তালিকায় থাকা অধিকাংশ ফ্ল্যাট বাড়ি বা আবাসন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, শিলিগুড়ি, আসানসোল, দুর্গাপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের অন্যান্য জেলার শহর এবং শহরাঞ্চলে। জানা গিয়েছে, দু-একটি বড় মাপের আবাসনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ থাকলেও, অধিকাংশই হল শহরতলির মাঝারি ও ছোট ফ্ল্যাট বাড়ি বা আবাসনের বিরুদ্ধে। কারণ, বড় আবাসন প্রকল্পের নির্মাতাদের এই তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে তোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা করাই থাকে। কিন্তু শহরতলির আনাচে কানাচে গজিয়ে ওঠা আবাসন নির্মাণের ক্ষেত্রেই এই ধরনের বিচ্যুতি ধরা পড়ে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ২০০ বর্গ মিটারের চেয়ে বেশি জমি বা ছ’’টি ফ্ল্যাটের চেয়ে বেশি আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে রেরার অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। যা না থাকলে, ফ্ল্যাট বাড়ির কমপ্লিশন সার্টিফিকেট না দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে নবান্ন। ক্রেতাদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেই এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন। জরিমানার পাশাপাশি পোর্টালে বাকি থাকা তথ্য তুললে, তবেই তাদের ‘খেলাপি’ বা ‘ডিফল্টার’ তালিকা থেকে তাদের সরানো হবে বলেই জানা গিয়েছে।