


নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ৮০ শতাংশ বিষয়ের ফয়সালা হয়েই গিয়েছে। আলোচনার টেবিলে বসে বাকি ২০ শতাংশও মিটিয়ে ফেলতে ফের ব্রিটেন সফরে ফিরলেন কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
গত সোম ও মঙ্গলবার ব্রিটেন সফর করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। লন্ডনে ব্রিটিশ বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডসের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাকে ত্বরান্বিত করার বিষয়ে দু’পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। পরে সেবিষয়ে এক্স হ্যান্ডলে পীযূষ গোয়েল লেখেন, ‘দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও লগ্নির সম্ভাবনাগুলিকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যেই আমার এই সফর। ব্রিটিশ শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। সেখানে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাকে আরও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও পোক্ত করার বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে।’ সফরের দ্বিতীয় দিনেও রেনল্ডসের সঙ্গে বৈঠক করেন গোয়েল। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় দফার ওই বৈঠকে হাই এমিশন ইম্পোর্টসে ব্রিটেন যে উচ্চ হারে ‘কার্বন ট্যাক্স’ চাপিয়েছে, তা লাঘব করার জন্য ব্রিটিশ মন্ত্রীর কাছে আর্জি জানান গোয়েল। ‘হাই এমিশন ইম্পোর্টস’ বলতে এমন আমদানিকৃত পণ্য বা উপকরণ বোঝায় যেগুলি ব্যবহারের সময় উচ্চমাত্রায় কার্বন নির্গত হয়। যেমন, কয়লা-ভিত্তিক শিল্পজাত পণ্য বা ভারী যন্ত্রপাতি এই বিভাগে পড়ে।
ব্রিটিশ শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি এই সফরে ভারত ও ব্রিটেনের শিল্পপতিদের সঙ্গেও গোলটেবিল বৈঠক করেন গোয়েল। ভারতে উদ্ভাবন-ভিত্তিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডি বিয়ার্স গ্রুপের কর্ণধার আল কুক, ফিনটেক সংস্থা রিভোলুট-এর চেয়ারপার্সন মার্টিন গিলবার্ট সহ আরও অনেকে। সূত্রের খবর, ভারতে ফিনটেক সেক্টরে (আর্থিক পরিষেবায় প্রযুক্তির প্রয়োগ) বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে গিলবার্টের সঙ্গে কথা হয় গোয়েলের। অন্যদিকে, কুকের সঙ্গে রত্ন ও গয়না শিল্পে ভারতের সম্ভাবনা, হীরে শিল্পের আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। এছাড়া এইচএসবিসি ব্যাঙ্কের গ্রুপ চেয়ারম্যান মার্ক টাকারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন গোয়েল। বৈঠকের পর ভারতীয় শিল্পপতিদের নৈশভোজেও যোগ দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, ভারত ও ব্রিটেনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ২৬টি বিষয়ের মধ্যে ২৫টি বিষয়েই দু’পক্ষ ঐক্যমতে পৌঁছেছে। একই সুর শোনা গিয়েছে এই চুক্তির আলোচনা পর্বের সঙ্গে জড়িত ব্রিটিশ আধিকারিক আমান্ডা ব্রুকসের গলাতেও। তাঁর কথায়, ‘শীঘ্রই এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ শিল্পমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডসের ভারত সফর থেকে ফের বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে তৎপর হয় দুই দেশ। তারপর সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন লন্ডন সফরে এসে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন।