


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শতাব্দীপ্রাচীন কলকাতা শহরের একটি অন্যতম সমস্যা হল বেআইনি নির্মাণ। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নির্মাণের ফলে বিভিন্ন সময় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনার প্রেক্ষিতে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে বিধিনিষেধ আরও কড়া করেছে পুরসভা। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সুফলও মিলছে বলে দাবি পুর-আধিকারিকদের। সেই সঙ্গে মানুষের স্বার্থে ‘সামান্য বিচ্যুতি’ বা ‘মাইনর ডেভিয়েশন’-এর কারণে যেসব নির্মাণ অবৈধ বলে চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলি নির্দিষ্ট জরিমানার বিনিময়ে ‘রেগুলারাইজ’ বা বৈধ করে দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার পুরসভার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে জবাবি ভাষণে মেয়র জানান, গত দু’বছরে মোট ৮৫০টি অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। আর নির্দিষ্ট জরিমানার বিনিময়ে ‘রেগুলারাইজ’ করা হয়েছে ৭১০টি নির্মাণ। এই পরিসংখ্যানই অবৈধ নির্মাণ নিয়ে পুরসভার কড়া মনোভাব স্পষ্ট করছে বলে দাবি করেন মেয়র।
কিন্তু কোন প্রসঙ্গে মেয়র এই তথ্য উত্থাপন করলেন? বিরোধী শিবির সহ বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, জরিমানা নিয়ে অবৈধ নির্মাণ ‘রেগুলারাইজ’ করার ক্ষেত্রে বড়লোকরাই প্রভূত সুবিধা পাচ্ছেন। টাকা না থাকায় ভাঙা পড়ছে কেবল গরিবের ‘অবৈধ নির্মাণ’। বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনেও বাম কাউন্সিলার নন্দিতা রায় বলেন, ‘বেআইনি নির্মাণ করে বড়লোকরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। আর গরিবরা সমস্যার মধ্যে পড়ছে। তাদের বাড়িই ভাঙা পড়ছে।’ বিজেপি কাউন্সিলার বিজয় ওঝা এবং কংগ্রেসের সন্তোষ পাঠকও কমবেশি একই অভিযোগে সরব হন। জবাবি ভাষণে মেয়র বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের এই দাবি খারিজ করে দেন। পুর-বিল্ডিং বিভাগের তথ্য তুলে ধরে ফিরহাদের জানান, গত দু’বছরে যে ৭১০টি অবৈধ নির্মাণকে ‘রেগুলারাইজ’ বা জরিমানা নিয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৫০০ বর্গফুট পর্যন্ত আয়তনের বাড়ি রয়েছে ৪৮০টি। ৫০০ থেকে ৭৫০ বর্গফুটের ১৫০টি এবং ৭৫০ থেকে ১০০০ বর্গফুট আয়তনের মাত্র ৮০টি নির্মাণ রয়েছে। এরপরই বিরোধীদের উদ্দেশে মেয়রের প্রশ্ন, ‘আপনারাই বলুন, এত ছোটো প্লটে কি বড়লোকরা থাকে? আমরা বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করছি। তবে বিভিন্ন কলোনি অঞ্চল, যেখানে আগেই বাড়ি তৈরি হয়ে রয়েছে, সেখানে কিছু কিছু নির্মাণকে ছাড় না দিলেই নয়। তাই সেগুলি রেগুলারাইজ করা হয়েছে।’ এদিন মেয়র আরও জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোটো জমিতে ১১ হাজার ৫৩৯টি বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।