


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: হাদিপুর–ঝিকরা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩২ নম্বর বুথের ভোটার ৯০ বছরের মনোরমা রায়। তিনি গুরুতর অসুস্থ। তা সত্ত্বেও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার হুইল চেয়ারে বসে আসতে হল দেগঙ্গার শুনানি কেন্দ্রে। তিনি একা নন, দেগঙ্গায় এসআইআরের শুনানিতে আসতে হয়েছে একাধিক অসুস্থ ও প্রবীণ ভোটারকে। উঠল হয়রানির একাধিক অভিযোগ।
এই ঘটনাগুলিকে সামনে এনে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলল বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। তাদের দাবি, ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন নির্দেশিকা দিয়ে স্পষ্ট করেছে, ৮৫ ঊর্ধ্ব ভোটারদের বাড়ি গিয়ে শুনানি করাতে হবে। উক্ত ভোটারদের ফোন করে বিষয়টি জানাতে হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেই নির্দেশ আর একটি জুমলা। সব নিয়মকেই কার্যত বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে।
হাদিপুর–ঝিকরার মনোরমা রায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে বলে দাবি তার পরিবারের। তবে বানান সংক্রান্ত কিছু ত্রুটি রয়েছে। সে জন্য তাঁকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়। তাঁর ছেলে সুকান্ত রায় বলেন, ‘মা বহুদিন ধরে অসুস্থ। হাঁটাচলা করতে পারেন না। এমন অবস্থায় তাঁকে শুনানিতে আসতে বাধ্য করা হল।’ আর সংশ্লিষ্ট বিএলও রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘মনোরমাদেবীর বয়স ৯০ বছর এটা জানি। কিন্তু উনি অসুস্থ তা আমাকে জানানো হয়নি পরিবারের পক্ষ থেকে। জানলে বাড়িতেই শুনানি হত।’ অন্যদিকে নুরনগর পঞ্চায়েতের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ৮১ বছরের গীতারানি ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। তাঁর পরিবারের দাবি, তিনি ১৯৭১ সালে ভোট দিয়েছেন। অথচ ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই। তাই শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এদিন পরিবারের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে শুনানি কেন্দ্র দেগঙ্গা বিডিও অফিসে নিয়ে আসেন। অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই তাঁর শুনানি হয়।’ তাঁর ছেলে সুদীপ ঘোষ বলেন, ‘মা দাঁড়াতে পারেন না। বসতে পর্যন্ত পারেন না। এমন অবস্থায় শুনানিতে আসতে হয়েছে। ওঁর যন্ত্রণার শেষ নেই।’
তবে এর উল্টো ছবিও আছে। হাদিপুর-ঝিকরা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহুরজান বিবি। তাঁর ৯৫ বছর বয়স। কানে শুনতে পান না। চোখে ভালো দেখতে পান না। তাঁর নাম পুরনো ভোটার তালিকায় নেই। শুক্রবার তাঁর বাড়ি হাদিপুরের বাসাবাটি গ্রামে গিয়ে শুনানি করলেন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। উপস্থিত ছিলেন বিডিও ফাহিম আলম। তিনি বলেন, ‘মহুরজান বিবির পরিবার জানিয়েছিল। তাই বাড়িতে গিয়ে শুনানি হয়েছে।’ এছাড়া গীতারানির বিষয়ে বিডিওর বক্তব্য জানা যায়নি। মনোরমা ইস্যুতে বিডিও কোনও মন্তব্য করেননি।