


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলন্ত ট্রেন হাত দিয়ে ধরে থামিয়ে দেয়। ভয়ানক ভারী রোড রোলার তুলে ফেলা তার কাছে নস্যি। অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারী হিসেবেই তাকে চেনে সবাই। বাঙালির যদি কোনও সুপারম্যান থেকে থাকে, তাহলে সে হল বাঁটুল। বাঁটুল দি গ্রেট। বাঙালির এই সুপারহিরো ভোটেরও কাজ করছে কয়েক বছর হল। হাওড়া তার কর্মক্ষেত্র।
হাওড়ার বাসিন্দা ছিলেন কার্টুনিস্ট পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত নারায়ণ দেবনাথ। তাঁরই হাতে তৈরি বাংলার জনপ্রিয় কমিক চরিত্র বাঁটুল। গোটা বাংলায় এবং পৃথিবীর অধিকাংশ বাঙালির কাছে বাঁটুল অসম্ভব জনপ্রিয়। আর নারায়ণবাবুর হাওড়ায় সবাই বাঁটুল বলতে অজ্ঞান। ফলে ভোটের কাজে তাকে নামাতেই হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। হাওড়ায় নির্বাচনী ম্যাসকট হল বাঁটুল দি গ্রেট।
দায়িত্ব পাওয়ার পর ভোটদানে মানুষকে সচেতন করতে বাঁটুল লাগাতার কাজ করে চলেছে। এই হাওড়া ব্রিজ থেকে এক লাফে গঙ্গার পাড়ে এসে পড়ছে। তারপর আঙুল তুলে ভোটের কালি দেখিয়ে সকলকে বলছে, ‘নমস্কার। আমি বাঁটুল। আপনার ভোটবন্ধু। আগামী ২৯ এপ্রিল হাওড়া জেলার ভোট। ওইদিন আমরা সকাল সকাল নিজের নিজের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেব।’ বলেটলে আবার লাফ দিয়ে উঠে পড়ছে হাওড়া ব্রিজে। সেখানেও নির্বাচন কমিশনের বার্তা প্রচার করছে। এত গরমেও অক্লান্ত। ভোটের দায়িত্বপালনে অবিচল।
এবার কিন্তু প্রথম নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকেই তার কাঁধে হাওড়ার ভার। তারপর লোকসভাতেও পেয়েছিল দায়িত্ব। ফলে এবার ম্যাসকট হিসেবে হ্যাটট্রিক হাওড়ার বাঁটুল দি গ্রেটের। ২০২১ সালে হাওড়ার জেলাশাসক এবং জেলার নির্বাচনি আধিকারিক ছিলেন মুক্তা আর্য্য। তাঁর পর জেলাশাসকের দায়িত্ব পান দীপাপ্রিয়া পি। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচন হয় তাঁর অধীনে। সেবারও বাঁটুল থেকে যায় নিজের পদে। ২০২৬ সালে বিধানসভাতেও বাঁটুলই ম্যাসকট হয়। দীপাপ্রিয়া পি বলেন, ‘বাঁটুল দি গ্রেটের স্রষ্ঠা নারায়ণ দেবনাথের সঙ্গে এই মাটির নিবিড় যোগ। এর থেকে ভালো ম্যাসকট আর কিছু হতে পারে বলে মনে হয় না। সে কারণেই এবারও আমাদের ম্যাসকট বাঁটুল।’এখন হাওড়া বাঁটুলময়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে টাঙানো তার বড়ো বড়ো কাটআউট। কোথাও ব্যানার ঝুলছে। তা থেকে উঁকি দিয়ে হেঁটে যাওয়া ব্যক্তিকে সজাগ করছে বাঁটুল। তার পরনে সেই নীল হাফ প্যান্ট। গায়ে সেই গোলাপি শ্যান্ডো গেঞ্জি। সে গেঞ্জিতে নির্বাচন কমিশনের লোগো বসেছে অবশ্য। এছাড়াও অ্যানিমেশন ফিল্ম তৈরি হয়েছে তাকে নিয়ে। তা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। দেদার লিঙ্ক শেয়ার হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে। সে ফিল্মে বাঁটুল হাওড়া ব্রিজের উপর দিয়ে হাঁটছে। কলকাতাগামী লঞ্চে গঙ্গা পার হচ্ছে। আর মানুষকে বলছে, ‘ভোটদান আপনার-আমার সবার অধিকার। মনে রাখবেন, প্রতিটি ভোট আমাদের দেশকে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সবাই নিজের ভোটদান নিশ্চিত করুন। আসুন, আমার সবাই মিলে গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব পালন করতে ভোট দিতে যাই। ভোটের পর্ব, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব।’ বাঁটুলকে এ ভূমিকায় দেখে বড়োরা তো বটেই বেশি খুশি বাচ্চারা। তাদের অনেকে বায়না ধরেছে, বাঁটুলের সঙ্গে ভোট দেবে।