


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: চাহিদা মেটাতে ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় দেদার ঢুকছে পোল্ট্রি মুরগি। তার জেরে বাজারে মুরগির মাংসের দাম একলাফে কুড়ি টাকা বেড়ে হয়েছে ২২০ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম আরও বাড়তে পারে।
কিছুদিন আগে বাংলা সীমান্ত লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ে বার্ড ফ্লুর প্রকোপ দেখা দেয়। নিশ্চিত হওয়ার পর পাকুড়কে কেন্দ্র করে দশ কিমি জুড়ে বিশেষ নজরদারি চালাতে শুরু করে পড়শি রাজ্যের প্রশাসন। পাকুড় থেকে কোনও পোল্ট্রি মুরগি বা ডিম বাংলায় প্রবেশ করা যাবে না বলে নির্দেশিকা জারি করে বীরভূম প্রশাসন। এদিকে এরই মধ্যে ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া মুরারই, নলহাটি, রামপুরহাট সহ বিভিন্ন এলাকায় পোল্ট্রি ফার্মগুলিতে মুরগি মারা যেতে শুরু করে। জেলা প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের পক্ষ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। জেলা প্রাণী সম্পদ বিকাশ আধিকারিক তুহিন চক্রবর্তী বলেন, পরীক্ষায় বার্ড ফ্লুর কোনও জীবাণু মেলেনি। ফার্মগুলিতে মুরগির ঠিকমতো পরিচর্যা না হওয়ায় এবং নির্দিষ্ট সময়ে ভ্যাকসিন না করায় এই মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে এখানকার ফার্মগুলির মুরগি মারা যাওয়ায় রামপুরহাট সহ বিভিন্ন বাজারে পোল্ট্রি মুরগির জোগান নেই। ফলে দিন কয়েক ধরে মুরগির মাংস কিনতে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছিল সাধারণ ক্রেতাদের। এই অবস্থায় ঝাড়খণ্ডের দুমকা, গোড্ডা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মুরগি আমদানি শুরু করেছেন এখানকার খুচরো বিক্রেতারা। ফলে যে মুরগির মাংস কিছুদিন আগে পর্যন্ত কেজি প্রতি ২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছিল, সেটাই এখন ২২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। রামপুরহাটের এক খুচরো বিক্রেতা তরুণ নাগ বলেন, কিছুদিন আগে পর্যন্ত এখানকার ফার্মগুলিতে মুরগি মারা যেতে শুরু করে। ফলে বাজারে পোল্ট্রি মুরগির জোগান কমে আসে। বর্তমানে ওই ফার্মগুলিতে যে মুরগি পালন করা হচ্ছে, তা বাচ্চা। সেগুলি বিক্রির উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি। ফলে বাধ্য হয়ে ঝাড়খণ্ডের দুমকা থেকে গাড়িতে করে মুরগি আনতে হচ্ছে। পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে ঝাড়খণ্ডের দুমকা এলাকা থেকে মুরগি বাংলায় ঢোকার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধে হবে না বলে জানিয়েছেন তুহিনবাবু।
তবে ব্যবসায়ীদের মতে, এখনই দাম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। উল্টে দামও আরও বাড়তে পারে। এখানকার ফার্মে থাকা মুরগিগুলি বড় না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা চলবে। আষাঢ় মাসের আগে পোল্ট্রি মুরগির দাম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানাচ্ছেন তাঁরা।
এদিকে বাজারে খাসির মাংস সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার প্রায় বাইরে। দাম কেজি প্রতি সাড়ে আটশো টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। রুই, কাতলা বা পোনা মাছের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। এদিকে সস্তায় পুষ্টিকর খাবার পোল্ট্রি মুরগির মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের হাঁসফাঁস অবস্থা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।