


ইন্দোর: রবিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ধীরেসুস্থে করেছিল ভারত। অভিষেক শর্মা বড়ো শট না নিয়ে খুচরো রানে মনে দিয়েছিলেন। প্রথম পাঁচ বলে তাঁর ব্যাটে এসেছিল ৫। অথচ, রাঁচিতে আগের টি-২০ ম্যাচেই আড়াইশো রানের টার্গেট তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতীয় ব্যাটারদের থেকে প্রথম থেকেই সেজন্য আগ্রাসনের অপেক্ষা করছিল গ্যালারি। যা দেখতে পাওয়া যায় ইনিংসের ২.২ ওভারের পর থেকে। অভিষেক এই সময় থেকেই গগনে গগনে তুলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৩০ বলে ৬৯ করে ফেরেন তিনি, যা ভারতের ২২৩ রানে পৌঁছানোর ভিত গড়ে দেয়। অর্শদীপ সিং, নমন ধীরের বোলিংয়ে ক্যারিবিয়ানরা থামে ২০৯ রানে। ফলে সিরিজে ২-১ এগিয়ে যায় শ্রেয়স আয়ার ব্রিগেড। বুধবার হায়দরাবাদে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ।
কিন্তু কেন শুরুতে গুটিয়ে ছিলেন অভিষেক? প্রচারমাধ্যমের কাছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাঁ-হাতি ওপেনার। তাঁর মতে, ‘অফস্পিনার রোস্টন চেজ প্রথম ওভারে এসেছিল আক্রমণে। বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমাকে আউট করার জন্য বিপক্ষের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। রোস্টনের সঙ্গে দ্বৈরথ হচ্ছিল আমার। এই সিরিজে দুর্দান্ত বল করছে ও। তাই প্রথম ওভারে ঝুঁকি নিইনি। সমীহ করে খেলি। কারণ, পাওয়ার প্লে’তে ওদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করা জরুরি ছিল।’ উল্লেখ্য, চলতি টি-২০ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই অভিষেককে ফেরান রোস্টন। এমনকী, রবিবারও শেষ পর্যন্ত তাঁকেই উইকেট দেন ভারতীয় ব্যাটার। তবে তার আগে শটের ফুলঝুরিতে প্রতিপক্ষ শিবিরে আতঙ্ক ছড়াতে সফল অভিষেক। ক্যারিবিয়ানরা তাঁকে আটকাতে যতটা সম্ভব রক্ষণাত্মক বোলিং শুরু করে। পেসার শামার স্পিঙ্গার মেনেও নেন যে, ‘আমাদের প্ল্যান বি ছিল ডিফেন্সিভ বল করা। কিন্তু অভিষেক বিশ্বমানের ব্যাটার। ওকে কুর্নিশ জানাই। আটকে রাখতে পারিনি আমরা।’ আগের ম্যাচের কথা মাথায় রেখে ভারত অবশ্য শুরু থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠতে চেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। অভিষেকের কথায়, ‘ওরা এমন বিপক্ষ যে, কখনোই স্বস্তিতে থাকা যায় না। রাঁচিতে ওদের যে ব্যাটারই ক্রিজে এসেছে, সেই শট খেলেছে। সেটা এদিন আমাদের মনে ছিল। তাই উইকেট পড়তে থাকলেও আমরা আক্রমণাত্মক থেকেছি। ওদের ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগ দিতে চাইনি। অবশ্য শেষ পর্বে শামার স্প্রিঙ্গার অবিশ্বাস্য সব শট খেলছিল। আমরা তাই সতর্ক ছিলাম শেষ বল পর্যন্ত। জিতে মাঠ ছাড়তে পেরে দারুণ তৃপ্তি লাগছে।’
এদিকে, চোটের জন্য ভারত ‘এ’ দলের নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম দুই বেসরকারি টেস্টে নেই ঋষভ পন্থ। বিসিসিআই সোমবার পরিবর্ত হিসাবে ঝাড়খণ্ডের ২১ বছর বয়সি কিপার কুমার কুশাগ্রর নাম ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, ইরানি কাপে অবশিষ্ট ভারত দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন পন্থ। সেই ম্যাচেই প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার সময় সুইপ মারতে গিয়ে বাঁ দিকের পেশিতে টান অনুভব করেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে তাই নামেন আট নম্বরে। জম্মু ও কাশ্মীরের দ্বিতীয় ইনিংসে কিপিংও করেননি তিনি।