


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হল হাবড়ার কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। হঠাৎ সোমবার রাতে আকাশ কালো করে নামে কালবৈশাখী। দমকা হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল বৃষ্টি এবং তীব্র ঝড়ো বাতাসে মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় এলাকার চিত্র। স্থানীয়দের দাবি, ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে চোখের পলকে বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাছ উপড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।
কুমড়া, ভারতীনগর, বাঘাডাঙা, মাকানতলা সহ একাধিক এলাকায় প্রায় ৩০০টি বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কোথাও টিনের ছাউনি উড়ে গিয়ে ঘরের জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে। কোথাও আবার কাঁচা বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। বহু জায়গায় খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন স্থানীয় বাসিন্দা অমল দাস। তাঁর কথায়, হঠাৎ করে আকাশ অন্ধকার হয়ে গেল। তারপরেই শুরু হল তীব্র ঝড়। কিছু বোঝার আগেই আমাদের টিনের চাল উড়ে গেল। আমরা ঘরের ভিতর থেকে বেরতেই পারিনি।
একই রকম অভিজ্ঞতা জানালেন ভারতীনগরের রীনা মণ্ডল। বলেন, ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। গাছ ভেঙে আমাদের বাড়ির সামনে পড়ে যায়। মনে হচ্ছিল আর বাঁচব না। বাঘাডাঙার বাসিন্দা প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ঝড়ের সময় বাতাসের গতি এতটাই বেশি ছিল যে, দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এমন ঝড় আগে কখনও দেখিনি। গাছ ভেঙে রাস্তায় পড়ে যাওয়ায় আমরা বের হতেও পারছিলাম না। ঝড়ের পরপরই এলাকায় নেমে আসে আরও দুর্ভোগ। বহু রাস্তা গাছ ও ভাঙা ডালপালায় বন্ধ হয়ে যায়। এনিয়ে হাবড়ার বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল বলেন, আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি বিষয়টি। ত্রাণ ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।