


সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ির ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এবার উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরকীয়ার জেরেই ভবেন রায়কে ছুরি মারা হয়েছিল পিঠে ও বুকে। শুক্রবার এমন কথাই বললেন অভিযুক্ত কয়নাথ রায়। শুক্রবার বিকেলে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার কয়নাথের বিরুদ্ধে ময়নাগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আহত ভবেন রায়ের ছেলে মানিক রায়। অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ২৩ তারিখ ভবেন রায় সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তারপর একটি দোকানে এসে বসেছিলেন। অভিযোগ, সেই সময়ে ধৃত কয়নাথ ও তার ছেলে এসে তার পিঠে ও বুকে ছুরি মারে। এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এলাকায়। আহত ভবেন রায়ের চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে আসে। স্থানীয়রা আসার আগেই অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযুক্ত কয়নাথ রায় বলেন, ‘প্রায় গত বছর থেকে আমার স্ত্রীর সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্ত্রীকে এই বিষয়ে শাসন করেছিলাম। মাস খানেক আগে ভবেন রায়কে পর্যন্ত এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেছি। কিন্তু এরপরেও সে আমার কথার কর্ণপাত করে নি। বাধ্য হয়ে তাকে ছুরি মেরেছি। আমি একাই মেরেছি, আমার ছেলে উপস্থিত ছিল না ঘটনাস্থলে। তাকে যে ছুরি মেরেছি তাতে আমার কোন আফসোস নেই।’
তবে অভিযুক্তের এই দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আহতের ছেলে মানিক রায়। তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘অভিযুক্ত নিজের দোষ ঢাকতে ডাহা মিথ্যে কথা বলছে। ওর স্ত্রী কানে শুনতেই পান না, কারও সঙ্গে কথাই বলে না। সেখানে এমন সম্পর্কের প্রশ্নই ওঠে না। আমার বাবার নামে ভিত্তিহীন অপবাদ আনা হচ্ছে। এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখনও শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ভবেন রায়। সত্যিই কি পরকীয়া, নাকি পুরোনো কোনও শত্রুতার জের? এই রক্তাক্ত হামলার গভীরে পৌঁছতে ধৃতকে জেরা করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ।