


অমরাবতী, ২ নভেম্বর: ক্লাস চলাকালীন আচমকাই ক্লাসরুমে বৈদুতিক করাত নিয়ে ঢুকে পড়েছিল এক যুবক। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্কুলের ক্লাসরুমে। প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে পড়ুয়ারা। সেই হামলায় গুরুতর জখম হয়েছিল দশম শ্রেণির দুই ছাত্রী। তাদের মধ্যে এক ছাত্রীর ডান হাত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল অভিযুক্ত হেমন্ত ওরফে ডুম্মু। তারপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে একটি স্থানীয় জঙ্গল থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ তাকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গেলে সেখানে সে পুলিশের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তাকে রুখতে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে পালটা গুলি চালায়। তাতে গুরুতর জখম হয় হেমন্ত।
ঘটনাটি অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার রাপথাডু জেলা পরিষদ হাইস্কুলের। অভিযুক্তের নাম হেমন্ত ওরফে ডুম্মু। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার একদিন পর একটি জঙ্গল এলাকায় তার লুকিয়ে থাকার খবর পান তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে নামে পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশ তাকে ঘিরে ফেলতেই পালানোর চেষ্টা করে হেমন্ত। সেই সময় তার হাতে ছিল একটি ছুরি। পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার পাশাপাশি তাঁদের উপর হামলাও চালায় সে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গুলি চালায় পুলিশ। সূত্রের খবর, অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে মোট ছ'রাউন্ড গুলি চালানো হয়। তাতে গুরুতর জখম হয় হেমন্ত। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এর আগের দিনই রাপথাডু জিলা পরিষদ হাইস্কুলে ক্লাস চলাকালীন বৈদ্যুতিক করাত নিয়ে ঢুকে দুই দশম শ্রেণির ছাত্রীর উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে হেমন্তের বিরুদ্ধে। চলন্ত করাত দিয়ে আক্রমণের জেরে দুই পড়ুয়াই গুরুতর আহত হয়। আহতদের মধ্যে এক ছাত্রীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার ডান হাত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। স্কুলের ভিতরে এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কী কারণে অভিযুক্ত ওই দুই ছাত্রীর উপর হামলা চালিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ বা যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।