


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: গতকালই বিধানসভা থেকে স্পষ্টভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন হুমায়ুন কবিরের উস্কানিমূলক বার্তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার পরে ২৪ ঘন্টাও কাটেনি। সোমবার রাত থেকেই মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করল পুলিশ।
হুমায়ুন রেজিনগরের যে সভায় বিতর্কিত মন্তব্য করেছিল, সেই সভামঞ্চের আয়োজকদের মধ্যে আমিনুল হক এবং গোলাম শেখকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির অঞ্চল সভাপতি গোলাম শেখকে সোমবার রাতেই তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ ওই দুজনকে বহরমপুর আদালতে তোলা হবে। অপরদিকে, শক্তিপুর থানার পুলিশ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সহ সভাপতি আনিসুর রহমানকেও একই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করল। তিনজনকে এক সঙ্গে মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে।
রেজিনগর বিধানসভার উপ নির্বাচনের আগেই রেজিনগরের কাশীপুরের এক সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবির। তিনি দাবি করেছিলেন, মুর্শিদাবাদে কিছু বিজেপি নেতা পরাজিত হয়েও অযথা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে একজোট করার কথা বলেন এবং এমন মন্তব্য করেন, যা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হলে তাতেও তিনি ভীত নন বলেও মন্তব্য করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, এরপর শক্তিপুরের আরেকটি সভাতেও হুমায়ুন কবীর স্থানীয় এক পুলিশ আধিকারিককে লক্ষ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। ভোটের আগে তাঁর ভাইপোকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, হাজার হাজার মানুষ নিয়ে থানায় গিয়ে ওই আধিকারিককে বের করে আনার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। এই বিতর্কিত মন্তব্যে রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দেন হুমায়ুনকে। হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে-এমন হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সময় এসেছে ওঁকে সবক শেখানোর। দু’টি থানায় ওঁর নামে এফআইআর দায়ের হয়েছে। ধরে রাখুন, যে উসকানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্য উনি করেছেন, সেটাই ওঁর শেষ বক্তব্য ছিল।’ এবার উস্কানি মূলক কুকথার অভিযোগে বিধায়ক হুমায়ুনের তিন অনুগামিকেই পাকড়াও করল রেজিনগর থানার পুলিশ।