


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ইভিএম বদল নিয়ে বিজেপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই সেক্টর অফিসারদের কাছে অতিরিক্ত ইভিএম রাখা ছিল বলে প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। কোন বুথে কত নম্বরের ইভিএম যাচ্ছে, সেক্টর অফিসারের কাছেই বা কোন কোন ইভিএম থাকছে, এব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছিল বলে আধিকারিকরা দাবি করেছেন। ফলে ইভিএম বদলের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভোটের দিন শালতোড়ায় একটি চারচাকা গাড়িতে বেশকিছু ইভিএম ছিল। গাড়িতে কেউ ছিলেন না। শালতোড়ার বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউরি তা নিয়ে সরব হন। তিনি গাড়ি থেকে একটি তৃণমূলের ঝান্ডাও বের করেন। পুরো বিষয়টি বিজেপি কর্মীরা ক্যামেরাবন্দি করেন। চন্দনাদেবী অভিযোগ তোলেন, আধিকারিকরা ইভিএম বদলের ছক কষেছিলেন। বিজেপিকে হারানোর জন্যই তাঁরা ওই পরিকল্পনা করেন। পরে বিজেপি-র অন্যান্য নেতাকর্মীরাও ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। তার ফলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এছাড়া রাইপুরেও ওইরকম একটি ঘটনা ঘটে। রাতভর বিষয়টি নিয়ে চর্চা হয়। বুথ থেকে স্ট্রং রুমে ইভিএম নিয়ে যেতে প্রশাসনকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল আধিকারিকদের একাংশকে কাজে লাগিয়ে ইভিএমে গরমিল করার চেষ্টা করেছিল। আমরা তা রুখে দিয়েছি। তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি ভোটে হারছে। পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, সেক্টর অফিসার ভোটের দিন এমসিসি আধিকারিক হিসাবেও কাজ করেন। শালতোড়ার একটি বুথের কাছে থাকা তৃণমূলের ঝান্ডা তিনি বাজেয়াপ্ত করে গাড়িতে রেখেছিলেন। সেক্টর অফিসারের সঙ্গে থাকা পুলিশের গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে যায়। ফলে তিনি এক জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখেন। এর বেশি কিছু হয়নি। তবে গাড়ি উন্মুক্ত রেখে তাঁর আশপাশে কোথাও যাওয়া উচিত হয়নি। সেক্টর অফিসার গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পরেই বিজেপি ভিডিও তুলে ভাইরাল করেছে। বিজেপি-র ইভিএম বদলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ওই গাড়িতে জিপিএস লাগানো ছিল।
জেলা প্রশাসন তথা নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ইভিএমের একটি নির্দিষ্ট নম্বর থাকে। বুথে পাঠানোর আগে তার তালিকা তৈরি হয়। সেই তালিকা প্রার্থী তথা রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া হয়। এছাড়াও অতিরিক্ত কিছু ইভিএম সেক্টর অফিসারদের কাছে রাখা থাকে। কোনো বুথে ইভিএম বিকল হলে ওই অতিরিক্ত ইভিএম বিকল্প হিসাবে সেখানে ব্যবহৃত হয়। ভোটের শেষে রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের সামনে ইভিএম সিল করা হয়। সেখানে এজেন্টদের সই থাকে। গণনা শুরুর আগে এজেন্টরা ওই সিল ও সই পরীক্ষা করে দেখেন। তারপর কাউন্টিং শুরু হয়।
ভোটগ্রহণে ব্যবহার না হওয়া অতিরিক্ত ইভিএম কোথায় যায়? নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে ওইসব ইভিএম জেলা প্রশাসনের ওয়ার রুমে চলে যায়। সেগুলি কোনোভাবেই গণনা কেন্দ্র চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয় না। ফলে ইভিএম অদলবদলের কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। এই ধরনের প্রচার সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।