


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে জমিজট কাটার ফলে মেজিয়া-গঙ্গাজলঘাটি জল প্রকল্পের সুবিধা শীঘ্রই পেতে চলেছেন বাসিন্দারা। চার বছর আগে শুরু হওয়া ওই প্রকল্পের কাজ প্রথমে করোনা ও পরে জমিজটের কারণে থমকে ছিল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও পুলিসের আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেন। তারপর সমস্যা মেটে। দ্রুত দুর্গাপুর ব্যারেজের ইনটেক প্ল্যান্ট থেকে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের(পিএইচই) ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে জল পৌঁছে যাবে। ফলে ওই দুই ব্লকের ৭০ হাজার বাড়িতে আর্সেনিক ও ফ্লোরাইড মুক্ত পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই আধিকারিকরা মনে করছেন।
বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন বলেন, ২০২০ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তারপর করোনার প্রকোপ শুরু হয়। দফায় দফায় লকডাউনের জেরে প্রকল্পের কাজে বিঘ্ন ঘটে। মাঝে পিংরুই ও মেটালি গ্রামে রাস্তা কাটা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ থমকে ছিল। গত ডিসেম্বর মাসে আমি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করি। তারপর থেকে পুলিসের সহযোগিতায় আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে জট কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। ইনটেক প্ল্যান্ট থেকে প্রকল্পের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পর্যন্ত পাইপ পাতার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই ওই পাইপ লাইনে জল ‘চার্জ’ করা হবে। দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দারা নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল পাবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি পাল বলেন, জলের জন্য রুখাশুখা দু’টি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের কার্যত ‘চাতকের’ মতো অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন নড়েচড়ে বসার ফলে কাজ হয়েছে। এর আগে পরিদর্শন করার সময় দ্রুত ওই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার ব্যাপারে পিএইচই কর্তৃপক্ষকে জেলাশাসক নির্দেশ দিয়েছিলেন। পিএইচই-র ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের নিয়ে জেলাশাসক ওই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করার সময় আমরাও দ্রুত কাজ শেষ করার আবেদন জানিয়েছিলাম। প্রশাসন ও পুলিস তৎপর হওয়ায় সমস্যা মিটেছে। আমরা চাই, দ্রুত বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দিতে পিএইচই কর্তৃপক্ষ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করুক।
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, দ্রুত কাজ শেষ করার ব্যাপারে জেলাশাসকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। করোনা ও দু’টি গ্রামে স্থানীয়দের বাধাদানের কারণে প্রকল্পের পাইপ পাতার কাজ বেশ কিছুদিন ধরে থমকে ছিল। সেই কারণে কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে। তবে আমরা প্রকল্প অনেকটাই গুটিয়ে ফেলেছি। তা সম্পূর্ণ করতে আর সমস্যা হবে না।
প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পিএইচই-র মেজিয়া-গঙ্গাজলঘাটি জল প্রকল্পের জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এডিবি) টাকা দিচ্ছে। প্রকল্পের জন্য মোট ৪০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বড়জোড়া প্রকল্পের মতো এক্ষেত্রেও দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল উত্তোলন করা হবে। তারজন্য ব্যারেজে ‘ইনটেক প্ল্যান্ট’ করা হয়েছে। সেই জল গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের বাসুদেবপুরের ‘ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে’ শোধনের পর বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করা হবে। ওই প্রকল্পের পানীয় জল ওই দুই ব্লকের ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৪০টি মৌজায় পৌঁছে দেওয়া হবে। ৭০ হাজার পরিবার পরিস্রুত পানীয় জল পাবে। দৈনিক মাথাপিছু ৫৫ লিটার হিসেবে পরিবারগুলিকে জল দেওয়া হবে। গড়ে প্রতি পরিবারে পাঁচজন করে সদস্য রয়েছে ধরে জল সরবরাহ করা হবে।