


সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশন আটটি ট্রেনকে বিভিন্ন স্টেশনে পরীক্ষামূলক স্টপেজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার ফলে আদ্রা ডিভিশন এলাকার বাসিন্দাদের রেল যাতায়াতে সুবিধা হবে। ট্রেনগুলি আগামী ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত নির্দিষ্ট স্টেশনগুলিতে স্টপেজ দেবে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রেল মন্ত্রক থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত ট্রেনগুলি বিজ্ঞপ্তি মেনেই চলবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রীরা রেলের এই সিদ্ধান্তে খুশি। তবে কোভিডের পর থেকে এখনো পর্যন্ত বেশ কিছু ট্রেনের পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। কিছু লোকাল ট্রেনকে এক্সপ্রেস হিসাবে চালিয়ে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। আবার সময় মতো ট্রেন চলাচল করে না বলে অভিযোগ উঠছে। যার জেরে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ । আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম বিকাশ কুমার বলেন, কয়েকটি ট্রেনের বিভিন্ন স্টেশনে স্টপেজ দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশিকা এসেছে। ট্রেনগুলি ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি থেকে যথারীতি বিভিন্ন স্টেশনে স্টপেজ দেবে।
আদ্রা ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮১৮২ (থাওয়ে-টাটা) এক্সপ্রেস বরাভূম ও বার্নপুর স্টেশনে ৩০ জানুয়ারি থেকে স্টপেজ দেবে। অন্যদিকে, ৬৩৫২০ (বোকারো - আসানসোল) প্যাসেঞ্জার বেগুনকোদর স্টেশনে, ১৮১৮১ (টাটা -থাওয়ে) এক্সপ্রেস বার্নপুর স্টেশনে, ৬৩৫২০ (বোকারো - বার্নপুর) প্যাসেঞ্জার ঝালদা স্টেশনে, ৬৮০৬১ (আদ্রা -আসানসোল) প্যাসেঞ্জার মুরাডি স্টেশন, ৬৩৫২০ (বোকারো -আসানসোল) প্যাসেঞ্জার পুন্দাগ স্টেশনে, ৬৮০৭৬ (ভোজুডি -আদ্রা) প্যাসেঞ্জার রুকনি স্টেশনে, এবং ১৮০১২ (চক্রধরপুর- হাওড়া) এক্সপ্রেস ফুলেশ্বর স্টেশনে ৩১ জানুয়ারি থেকে স্টপেজ দেবে বলে জানানো হয়েছে।
বস্তুত, আদ্রা ডিভিশনের ট্রেন পরিষেবা নিয়ে যাত্রীরা রেল মন্ত্রকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় চিঠি ও ডেপুটেশন দেন। কয়েকদিন আগে পুরুলিয়ায় জনসভায় এসে ট্রেন পরিষেবা নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোচ্চার হন। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তাই বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এনিয়ে রেলকে নিশানা করছেন।
সাঁতুড়ির বাসিন্দা অঞ্জন গোস্বামী, সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়রা বলেন, আদ্রা - আসানসোল প্যাসেঞ্জার ট্রেন মুরাডি স্টেশনে স্টপেজ তুলে দিয়েছিল। এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ডেপুটেশন দেওয়া ও বিভিন্ন জায়গায় চিঠি লিখে আবেদন জানান। শেষমেশ ট্রেনটিকে মুরাডিতে স্টপেজ দিতে বাধ্য হয়েছে রেল।
পাড়ার বিজেপি বিধায়ক নদীয়ার চাঁদ বাউরি বলেন, ভোজুডি-আদ্রা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি রুকনীতে স্টপেজ দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেছি। রেলের বিভিন্ন বিভাগে চিঠিও দিয়েছিলাম। অবশেষে স্টপেজ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার বলেন, আদ্রা ডিভিশনের বেশিরভাগ ট্রেন সময় মতো চলাচল করে না। সাপ্তাহিক ব্লকের নামে একাধিক ট্রেনের পরিষেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে। আন্দোলন চলবে।