


নয়াদিল্লি: মিশন সাকসেসফুল। ‘টার্গেট ডায়েরি’ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম মুছে দেওয়া হচ্ছে। পরের পাতায় একটা নাম ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নীতিন গাদকারি। কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী। সঙ্গে একটা শব্দ ‘ইথানল বাবা’। বহুচর্চিত সিনেমা ধুরন্ধরের স্টাইলে ইতিমধ্যে একাধিক রিলস ভাইরাল। যন্তরমন্তরের বিক্ষোভেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। এবার তা সত্যি হল। ককরোচ জনতা পার্টি তথা সিজেপির দেখানো পথেই জন্ম নিল ই-২০ জনতা পার্টি। দাবি একটাই—সরকার নির্ধারিত ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নয়। আম জনতাকে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রল বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে। এবং নর্মাল পেট্রলের দামে। তাই এবার কাঠগড়ায় আবার কেন্দ্র। তাদের নীতি। এবং নীতিন গাদকারি।
আত্মপ্রকাশের পরই ঝড়ের গতিতে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে এই সংগঠন। এক্স হ্যান্ডলে ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার ৫০০। ইনস্টাগ্রামে ১ লক্ষ ২৫ হাজার। প্রতি মুহূর্তে লাফিয়ে বাড়ছে সংখ্যাটা। একইসঙ্গে গাদকারির বিভিন্ন সময়ের সাক্ষাৎকার, বক্তব্যের মিমও ভাইরাল হতে শুরু করেছে। নেটিজেনদের একাংশের কথায়, ধর্মেন্দ্র বিদায় নিয়েছে। এবার গাদকারির পালা। আন্দোলনের নয়া পরিচয়, ই-২০ জনতা পার্টি। তবে এই পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে এখনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিখিল গাদকারি ও সারং গাদকারি। দুই গাদকারি পুত্র ও সায়ান অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। ইথানল মিশ্রিত পেট্রলকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েকমাস ধরে বিতর্কের অন্ত নেই। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ থেকে পাম্পের সাধারণ কর্মীরাও। পুরানো গাড়ি-বাইকের মাইলেজ কমে যাওয়া, গাড়ির ইঞ্জিন ও তেলের ট্যাঙ্কে সমস্যা সহ নানা বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন নিত্যযাত্রীরা। ভূগর্ভস্থ জলের অপচয়, পরিবেশ দূষণ নিয়েও গলা ফাটাচ্ছেন পরিবেশবিদদের একাংশ। সবার একটাই বক্তব্য, পয়সা দিয়ে তেল কিনব। তাহলে সরকার তার উপর খবরদারি করবে কেন? ই-২০ জনতা পার্টির ‘দাবি-সনদে’ও একই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘এটি একটি নাগরিক নেতৃত্বাধীন গ্রাহক অধিকারের আন্দোলন। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে আম জনতার কাছে যেমন পছন্দের সুযোগ থাকে, তেমনি জ্বালানি ক্রয়ের ব্যাপারেও সম্পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা জরুরি। জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজনীয়। এক্ষেত্রে ফুয়েল লেবেলিংয়ে কোনোরকম কারচুপি চলবে না। গ্রাহক যেন দামের পাশাপাশি জ্বালানির মিশ্রণ সম্পর্কেও জানতে পারেন। তাদের প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারেন। কোনো নির্দিষ্ট মিশ্রণের ক্ষেত্রে গাড়ির মাইলেজ, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ খরচের উপরও আলাদা করে সমীক্ষা করতে হবে। এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। মাথায় রাখবেন, এটি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। জনতার অধিকারের আন্দোলন।’
এরই মাঝে ৪ আগস্ট সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে দিল্লি ট্যাক্সি অ্যান্ড ট্যুরিস্ট ট্রান্সপোর্টারস অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন। কারণ? ই-২০ অভিঘাত। সংগঠনের সভাপতি সঞ্জয় সম্রাট জানিয়েছেন, ‘ই-২০ নিয়ে ট্রান্সপোর্ট অপারেটর ও গাড়ি মালিকদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।’