


কাবুল: উচ্চশ্রেণিরর ক্ষেত্রে শুধু পরামর্শ। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের কড়া স্তি। সম্প্রতি আফগানিস্তানে নতুন দণ্ডবিধি চালু করা হয়েছে। সেখানেই সমাজকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে তালিবান প্রশাসন। একইসঙ্গে মান্যতা পেয়েছে ‘দাসত্ব’। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তালিবান বিরোধীরা। মানবাধিকার সংগঠনগুলির কটাক্ষ, বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যযুগীয় ব্যবস্থার থেকেও নিন্দনীয়। চলতি মাসের শুরুতে ১১৯ পাতার নথি প্রকাশ করেন তালিবান প্রশাসনের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লা আখুন্দজাদা। নাম ‘দে মহাকুমু জাজাই ওসুলনামা’। নতুন বিধি অনুযায়ী, সমাজকে চার স্তরে বিভক্ত করা হয়েছে। ধর্মীয় পণ্ডিত (উলেমা), অভিজাত (আশরফ), মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত। অপরাধ করলে উলেমাদের শুধু পরামর্শ দেওয়ার বিধান রয়েছে সেখানে। আশরফদের সমন পাঠিয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে। মধ্যবিত্তরা পাবেন জেলের সাজা। নিম্নবিত্তদের ক্ষেত্রে জেলের পাশাপাশি ফাঁসি ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান দিয়েছে তালিবান প্রশাসন। অর্থাৎ, সমাজের শ্রেণি অনুযায়ী শাস্তি মিলবে। অপরাধের ভিত্তিতে নয়। বিষয়টি নিয়ে তালিবান প্রশাসনের বিরুদ্ধে সব হয়েছেন আফগানিস্তানের প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ ফারিদ হামিদি। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘প্রত্যেক নারগিককে দোষী সাব্যস্ত করার কথা ঘোষণা করছে এই নথি। মানুষকে নিকৃষ্ট আখ্যা দেওয়া অত্যন্ত অপমানজনক। বৈষম্যের ভিত্তিতে তৈরি এই দণ্ডবিধি অবিচার ছাড়া কিছুই নয়।’ অস্ট্রিয়ায় আফগানিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মানিঝা বাখতারির তোপ, ‘উত্তবিত্তরা শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারবেন। তাঁদের শুধু সতর্ক করা হবে। নিম্নবিত্তরা যাবতীয় শাস্তি পাবেন। সমাজের মধ্যে এই বৈষম্য সম্পূর্ণ অবৈধ।’ আফগানিস্তন উইমেন্স জাস্টিস মুভমেন্টের কটাক্ষ, ‘হিংসাকে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে।’
দণ্ডবিধির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অপরাধের নির্দিষ্ট শাস্তি না থাকলে নিজের ইচ্ছায় দণ্ড দেওয়া যাবে। প্রয়োজনে মালিক নিজেই দাস বা চাকরকে এই শাস্তি দিতে পারবেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলির তোপ, এই নিয়ম আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।