


জয়পুর: ‘রাজনৈতিক থ্রিলার’ বললে অত্যুক্তি হবে না। রাজস্থানের তিজারা পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে রীতিমতো নাটকীয় পরিস্থিতি। একদল কাউন্সিলারদের প্রথমে হিমাচল প্রদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে পুলিশের বিরুদ্ধে বাধাদানের অভিযোগ। এরইমধ্যে বোর্ড গঠনে ভোটাভুটির সময়সীমা বাড়াতে হাইকোর্টের নির্দেশ। আর তারপর গভীর রাতে মাত্র দুই ভোটের ব্যবধানে ফয়সালা। নির্দল কাউন্সিলারদের হাতে রাখতে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে দিনভর হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে শেষ হাসি হাতশিবিরের।
সদ্যসমাপ্ত ভোটে ৩৫ সদস্যের তিজারা পুরসভায় কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। জয়ীদের মধ্যে ৩১ জন বাম ও নির্দল প্রার্থী। আর কংগ্রেসের এক। বিজেপির তিন। ফলে বোর্ড গঠনে নির্ণায়ক ছিলেন বাম ও নির্দল কাউন্সিলাররাই। এরইমধ্যে ১৮ নির্দল কাউন্সিলারকে হিমাচলের কাসোলে নিয়ে গিয়ে রেখেছিল কংগ্রেস। পুরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্দল রামাবতার সাইনিকে নিজেদের প্রার্থী করেছিল কংগ্রেস। অন্যদিকে, বিজেপি তাদের শিবিরে টেনেছিল ১৬ নির্দলকে।
কংগ্রেস নেতা ইমরান খানের অভিযোগ, হিমাচল থেকে ভোটদানের জন্য ফেরার সময় পঞ্চকুলা টোল প্লাজার কাছে পুলিশ ওই কাউন্সিলারদের আটক করে নিয়ে যায়। এজন্য বাউন্সারেরও ব্যবহার করে। হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন জেলা কংগ্রেস সভাপতি বলরাম যাদব। একই অভিযোগ নির্দল কাউন্সিলার ববিতা সাইনিরও। তাঁর দাবি, আমরা যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোটদান কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারি, সেজন্য পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। হেমলতা সাইনি নামে আরও এক নির্দল কাউন্সিলারের অভিযোগ, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আমাদের একটি রিসর্টে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। আমরা কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। শেষ পর্যন্ত তাঁদের সাহায্যে মুক্তি পাই। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে পঞ্চকুলা পুলিশ।
কাউন্সিলাররা কোথায় আছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় ভোটদান ঘিরে সংশয় তৈরি হয়। হাইকোর্টে ভোটদানের নির্ধারিত সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন করে কংগ্রেস। এর ভিত্তিতে সময় দুপুর ২টো থেকে বাড়িয়ে প্রথমে রাত ৮টা ও পরে রাত ১০টা করা হয়। অবশেষে কাউন্সিলাররা এসে পৌঁছানোর পর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ভোটদান শুরু হয়। ৩৫ জন কাউন্সিলারের মধ্যে একজনের ভোট বাতিল হয়। চেয়ারম্যান পদে কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থী পান ১৮টি ভোট। আর বিজেপি সমর্থিত সুভাষ চাঁদ সাইনির ঝুলিতে যায় ১৬টি ভোট।