


ঢাকা: মাত্র এক দিনের ব্যবধান। বাংলাদেশের তিন প্রান্তে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন তিন হিন্দু যুবক। সোমবার সন্ধ্যায় যশোরের ভরা বাজারে গুলি করে খুন করা হয় সাংবাদিক রানা প্রতাপ বৈরাগীকে। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগে রাতে ফের হিন্দু নিধন। ঘটনাস্থল নরসিংদী জেলা। সেখানকার চরসিন্দুর ইউনিয়নে মুদি দোকানদার শরৎ চক্রবর্তী ওরফে মণিকে (৪০) খুন করে দুষ্কৃতীরা। মঙ্গলবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এদিন নওগাঁ জেলার মহাদেবপুরে চোর সন্দেহে মিঠুন সরকার (২৫) নামে এক যুবককে তাড়া করে উত্তেজিত জনতা। প্রাণে বাঁচতে খালে ঝাঁপ দেন মিঠুন। কিন্তু আর উঠে আসতে পারেননি। জলে ডুবেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সবমিলিয়ে ভোটমুখী বাংলাদেশে ক্রমাগতই বাড়ছে হিন্দু নির্যাতন। পরপর খুন হয়েছেন দীপু দাস, খোকনচন্দ্র দাস। ক্রমশ তালিকা লম্বা হচ্ছে। আতঙ্ক চেপে বসছে হিন্দুদের মধ্যে। আর এসবের মধ্যেই বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিস্থিতি নেই বলেই সরব হল জামাত।
চরসিন্দুর বাজারে পৈতৃক দোকান সামলাতেন শরত্। সোমবার রাত ৯টা নাগাদ বাড়ির কাছেই আক্রান্ত হন তিনি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথার পিছনে আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শরত্। স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হামলাকারীদের সম্পর্কে এখনও কিছু জানায়নি প্রশাসন। কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামেন চরসিন্দুর বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী।
অন্যদিকে, এদিন মহাদেবপুরের হাট চকগৌরী বাজারে হঠাত্ই স্থানীয়দের মিঠুনকে ধাওয়া করতে শুরু করে। বাজারের পাশে খালে ঝাঁপ দেন মিঠুন।
এই তিন খুনের আগেই অবশ্য সোমবার ঢাকায় একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে করেন জামাতের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরপর খুনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জামাত শিবিরের দাবি, বেশ কিছু সরকারি আধিকারিক একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতা করছে। নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করারও আর্জি জানানো হচ্ছে। মৃত শরৎ চক্রবর্তী।-ফাইল চিত্র