


ওয়াশিংটন: রাতারাতি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস সহ একাধিক স্থানে বোমা হামলা। দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে এনে বুক বাজিয়ে ঘোষণা—আপাতত আমরাই ভেনেজুয়েলা চালাব। এবং লাগাতার বেপরোয়া হুমকি-হুঁশিয়ারি। মাদক সন্ত্রাসবাদকে ঢাল করে এভাবেই বিশ্বমঞ্চে ঢাক পেটাতে ব্যস্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু লক্ষ্য কি? এক এবং একমাত্র তেলের ভাণ্ডার। তাই প্রেসিডেন্টকে বন্দি করে একটি দেশকে ঠুঁটো বানিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব গোটা বিশ্ব। চীন, রাশিয়া, কলম্বিয়া, মেক্সিকো। ক্ষোভ উগরে দিয়েছে একাধিক দেশ। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতও। এখানেই শেষ নয়, বিরোধিতা চরম আকার নিচ্ছে ট্রাম্পের নিজের দেশ আমেরিকাতেও। তাঁর ঔদ্ধত্যের নিন্দায় সরব মেয়র জোহরান মামদানিও। তাঁর মন্তব্য, সার্বভৌম রাষ্ট্রের উপর একতরফা হামলা চালানো যুদ্ধের সমান। এমন অস্থির পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। এমনকি রবিবার আমেরিকার নানা শহরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে আম জনতা। অর্থাৎ, ঘরে-বাইরে সর্বত্র কার্যত কোণঠাসা ট্রাম্প। কিন্তু তাতে কী? ভেনেজুয়েলা দখলের মাঝেই কলম্বিয়াকে হুমকি দিয়ে বসেছেন তিনি। ট্রাম্পের সরাসরি বার্তা—‘আগে নিজেকে বাঁচাও। নইলে..।’ এ যেন আর এক দেশ দখলের প্রচ্ছন্ন হুমকি।
এদিন ট্রাম্পের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে আমেরিকাবাসী। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে পোস্টার হাতে, মাইক নিয়ে গর্জে উঠেছেন আট থেকে আশি। হলুদ পোস্টারে লেখা—‘নো ওয়ার অন ভেনেজুয়েলা’। ‘নো ওয়ার ফর অয়েল’। এই বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে হোয়াইট হাউস পর্যন্তও। ট্রাম্পের কুশপুতুল খাড়া করে মার্কিন নাগরিকরাই দাবি তুলছেন, ‘লক হিম’। একে এবার বন্দি করতে হবে। ব্রুকলিন ডিটেনশন সেন্টারের সামনে জমায়েত করেছেন ভেনেজুয়েলার বাসিন্দারা। বিশ্বের নানা প্রান্তে ট্রাম্পের ‘স্বেচ্ছাচারে’র বিরুদ্ধে সরব হয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ। রবিবার কারাকাসের রাস্তায় ব্যানার, পোস্টার হাতে মানুষের একটাই দাবি—আমাদের প্রেসিডেন্টকে ফেরত দাও। বার্সেলোনা, প্যারিস, লন্ডনে আমেরিকার দূতাবাস থেকে হাভানা। সর্বত্র একই চিত্র।
তাও অবশ্য স্বমহিমায় ট্রাম্প। বেপরোয়া। শনিবারই ভেনেজুয়েলার উপর মার্কিন অভিযানের কড়া নিন্দা করেছিল কলম্বিয়া। সে দেশের প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো জানিয়েছিলেন, এই হামলা ভেনেজুয়েলা ও লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত। তাতেই আঁতে ঘা লাগে ট্রাম্পের। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকি, ‘আগে নিজেকে বাঁচাও।’ এ যেন ঘুরিয়ে সতর্কবার্তা, এখনই সংযত না হলে ভেনেজুয়েলার মতো হাল হবে। মেক্সিকো ও কিউবাকেও সাবধান করেছেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সেনা মোতায়নের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধেও মাদক পাচারের অভিযোগ তুলেছেন। তাই কলম্বিয়ার উপর হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছে চীন, রাশিয়া থেকে শুরু করে একাধিক দেশ। বেজিংয়ের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করে হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে আমেরিকাকে। দ্রুত তাঁদের মুক্তি দিতে হবে। সরব রাশিয়াও। পুতিনের দেশের বক্তব্য, এই সামরিক হামলার নেপথ্যে কোনও যুক্তি খাড়া করাই সঙ্গত নয়। আমেরিকার প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের বক্তব্য, বিষয়টি মাদকবিরোধী অভিযান বা গণতন্ত্র রক্ষা নয়। ট্রাম্প নিজেকে শক্তিশালী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বেআইনি। অদূরদর্শিতার পরিচয়।