


নয়াদিল্লি, ৫ এপ্রিল: প্রেমিকের সঙ্গে যোগসাজশ তারপর স্বামীকে খুন। এমনই এক ঘটনার কিনারা করতে আগ্রা পুলিশের উদ্যোগ হার মানাবে সিনেমার গল্পকেও। নিখোঁজ ডায়েরি, অর্ধদগ্ধ দেহ এবং মদের বোতলের কিউআর কোড এই সব সূত্র জোড়া লাগিয়ে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় এক ভয়ঙ্কর খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করল পুলিশ। গত ১ এপ্রিল রাতে আগ্রার সাইয়াঁ এলাকায় একটি অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। দেহের মুখ এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে পরিচয় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে হাতে থাকা ট্যাটু থেকে লোকেন্দ্র নামটি শনাক্ত করা যায়।
লোকেন্দ্রর ভাই থানায় প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। অভিযোগে উল্লেখ ছিল, আগের রাতে বাড়ি ফেরেননি লোকেন্দ্র এবং তাঁকে শেষবার মহেশ প্রজাপতির সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পুলিশ পাঁচটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। পরে পুলিশ লোকেন্দ্রর দেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মদের বোতল এবং কিছু কাগজের টুকরো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ লোকেন্দ্রর স্ত্রী, মহেশ প্রজাপতি এবং তাঁর বন্ধু ধর্মবীরকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মহেশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে লোকেন্দ্রর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সেই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদে জড়ান লোকেন্দ্র। এরপরই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে তাঁর স্ত্রী ও মহেশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল লোকেন্দ্র বাড়ি থেকে বেরোনোর পর তাঁর স্ত্রী মহেশকে ফোনে বিষয়টি জানান। এরপর মহেশ পথে লোকেন্দ্রর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে মদ্যপানের প্রস্তাব দেয়। পরিচিত হওয়ায় লোকেন্দ্র রাজিও হয়ে যান। পরে ধর্মবীর নামের এক ব্যক্তিও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয়। কিছুক্ষণ পর মহেশ ও ধর্মবীর একসঙ্গে লোকেন্দ্রর গলা টিপে অজ্ঞান করে দেয়। এরপর তাঁর শরীরে পেট্রোল ঢেলে তাঁকে পুড়িয়ে হত্যা করে।
পশ্চিম আগ্রার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার আদিত্য কুমার জানান, 'ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া কাগজের টুকরোর সূত্র ধরে স্থানীয় দোকানদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা জানান, ওই ধরনের কাগজ সাধারণত এক ফল বিক্রেতা ব্যবহার করেন। পাশাপাশি মদের বোতলের কিউআর কোড থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মেলে। সেই সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়'। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়।