


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মিনাখাঁয় তৃণমূলের বুথ সভাপতি মসিউর কাজি বোমা বাঁধতে গিয়েছিলেন ভাঙড়ের বামুনিয়াতে। বিস্ফোরণের পর তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে ঝলসে যাওয়া সকলকেই তোলা হয়েছিল অ্যাম্বুলেন্সে। কিন্তু মাঝরাস্তায় মসিউর মারা যাওয়ায় তাঁর দেহ ফেলে দেওয়া হয় মিনাখাঁর ঝুঝুরগাছি এলাকায়। এই এলাকাটি হাড়োয়া থানার অধীন। বোমা বাঁধতে গিয়ে আহত হয়েছিল সুজয় মণ্ডল। সে এখন বসিরহাটে একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। তাতে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই তথ্য পেয়েছে বসিরহাট জেলা পুলিশ। যে অ্যাম্বুলেন্সে করে দেহ লোপাট করা হয়েছিল, তার চালক রহমত আলি ওরফে সুরজ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে বিজয়গঞ্জ বাজার থানা।
গত বৃহস্পতিবার সকালে ঝুঝুরগাছি এলাকায় মসিউর কাজির ঝলসানো দেহ উদ্ধার হয় রাস্তা থেকে। তাঁর হাত-পা উড়ে গিয়েছিল। সারা শরীরে ছিল স্প্লিন্টারের দাগ। তা দেখে তদন্তকারী অফিসাররা নিশ্চিত যে, বোমার আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে তৃণমূলের বুথ সভাপতি মসিউরের। এর মাঝেই খবর আসে, বিজয়গঞ্জ বাজার এলাকার বামুনিয়ায় বিস্ফোরণে কয়েকজন আহত হয়েছেন। মসিউরের ঝলসানো দেহ দেখে পুলিশের সন্দেহ, বামুনিয়ার বিস্ফোরণেই মারা গিয়েছেন তিনি। আহতরা হাড়োয়া, বসিরহাট ও মিনাখাঁর বিভিন্ন বেসরকারি নার্সিংহোমে ভরতি। তাদের শরীরেও ঝলসানোর চিহ্ন রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখছে পুলিশ। বসিরহাটের একটি নার্সিংহোমে সুজয় মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির খোঁজ মেলে। সে ঝলসে যাওয়াতেই ভরতি হয়েছে সেখানে। তার একটি হাত উড়ে গিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই রহস্যভেদ হয়। সুজয় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, মসিউরের নেতৃত্বে সে সহ মোট দশজন বামুনিয়ায় বোমা বাঁধতে গিয়েছিল। মসিউর বোমা বাঁধায় এক্সপার্ট ছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে তার ডাক পড়ত। বোমা তৈরির সময় কোনোভাবে একটি ফেটে যায়। তার থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। তাতেই ঝলসে যায় মসিউর সহ অনেকে। এরপরই সুজয়কে আটক করে হাড়োয়া থানা। সুস্থ হলে তাকে হেপাজতে নেওয়া হবে।
তদন্তে উঠে এসেছে, আহত হওয়ার পর যারা তাদের নিয়ে গিয়েছিল, তারাই একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে আনে। কলকাতার কোনো হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে ভরতি করা হলে জানাজানি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে বসিরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। মাঝরাস্তায় মৃত্যু হয় মসিউরের। তখন তার দেহ রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। সুজয়কে ভরতি করা হয় বসিরহাট এলাকার একটি নার্সিংহোমে। বাকিদের বিভিন্ন জায়গায় ভরতি করা হয়েছে। জানা যায়, অ্যাম্বুলেন্সটি বিজয়গঞ্জ বাজার থানা এলাকার। মোবাইলের সূত্র ধরে অ্যাম্বুলেন্সের চালককে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে বিজয়গঞ্জ বাজার থানা।
ধৃত চালক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, শাসকদলের এক নেতা তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর কথামতো সেখানে হাজির হয় সে। যারা ঝলসে গিয়েছিল, তাদের বসিরহাটের বিভিন্ন নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে ভরতি করা হয়। চালকের দাবি, তার গাড়িতে জনা চারেক লোক উঠেছিল। বাকিদের অন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকিরা কোথায় ভরতি, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চান তদন্তকারীরা। পাশাপাশি এও জানা গিয়েছে যে, ওই চালক এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছে।