


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাট বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে বিরোধীদের পাশাপাশি জোড়াফুলের অন্দরেও নানা জল্পনা চলছিল। গত বেশ কিছুদিন ধরে সোশাল মিডিয়ায় চলছিল নানা গুঞ্জন। অনেকেই মনে করেছিলেন, বয়সজনিত কারণে এবার শাসকদলের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন পাঁচবারের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৭৪ বছরের ‘তরুণ’ আশিসবাবুর উপরই আস্থা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার বিকেলে পার্টি অফিসে কর্মীদের নিয়ে বসে দলনেত্রীর সাংবাদিক সম্মেলন দেখছিলেন আশিসবাবু। তাঁর নাম ঘোষণা হতেই নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। আশিসবাবুকে নিয়ে নাচতে শুরু করেন কর্মীরা। তাঁকে মিষ্টিমুখ করিয়ে শুভেচ্ছা জানান নেতা-কর্মীরা। কেউ আবার ‘স্যার’কে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। ততক্ষণে আবির খেলতে খেলতে চলে আসেন আরও কর্মী-সমর্থক। প্রার্থীর কপালে সবুজ আবিরের টিপ পরিয়ে শুরু হয় মিছিল। কর্মীদের উচ্ছ্বাস দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আশিসবাবু। অনেকে তাঁর বাড়িতে এসে অনেকে ফোনেও শুভেচ্ছা জানিয়ে সমর্থন করেন। তাঁর বাড়ির সামনেও কর্মী-সমর্থকরা সুবজ আবির খেলায় মেতে ওঠেন। এবার নিয়ে টানা ষষ্ঠবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আশিসবাবু। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন আমার প্রতি আস্থা রাখার জন্য কৃতজ্ঞ। রামপুরহাট বিধানসভার বাসিন্দাদের কাছেও কৃতজ্ঞ। তাঁরা বারবার নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগে করে দিয়েছেন। এবারও আবেদন করব তাঁরা যেন সেই সুযোগ থেকে আমাকে বঞ্চিত না করেন। আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, শুধু রামপুরহাট নয়, জেলার সব আসনেই তৃণমূল প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন। বাংলার প্রতি বঞ্চনা প্রতিবাদ ও বাংলা বিরোধীদের উচিত শিক্ষা দেবে মানুষ। এদিন নলহাটি শহরে তৃণমূল প্রার্থী রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিংকে নিয়ে সবুজ আবির খেলেন কর্মীরা।
রামপুরহাটের সিপিএম প্রার্থী সঞ্জীব মল্লিক বলেন, উনি পুনরায় প্রার্থী হয়েছেন ভালো কথা। কিন্তু ওঁর আমলেই বগটুই গণহত্যা হয়েছে। শুধুমাত্র তোলাবাজির জন্য দশজন সংখ্যালঘু মানুষকে পুড়িয়ে খুন করা হয়েছে। ওঁর আমলেই নাবালিকা আদিবাসী ছাত্রীকে ধর্ষণ করে নৃশংস খুন হয়েছে। ফুটপাত উচ্ছেদের সময় ওঁর ভূমিকা কী ছিল শহরের মানুষ দেখেছে। ডিসিআরের নামে তোলাবাজির টাকায় পার্টি অফিস চলে। ভোট চাইতে গেলে মানুষ ওঁকে এসব প্রশ্ন করবেন। বিজেপির জেলা সাধারণ শান্তনু মণ্ডল বলেন, উনি ২৫বছর ধরে রামপুরহাট বিধানসভার বিধায়ক। চাইলে এই বিধানসভা সোনায় মুড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে ওঁর সময়ে শহরে একের পর এক পুকুর ভরাট করে ফ্ল্যাট তৈরি চলছে। যানজটে শহরবাসীর চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ এলাকার রাস্তাঘাট বেহাল। এবার ভোটে ওঁর বিদায়ঘণ্টা বাজবে।
যদিও তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ওদের মিথ্যা প্রচারে মানুষ ভুলবে না। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে রামপুরহাটের কী অবস্থা ছিল আর এখন কেমন তা মানুষ নিজের চোখে দেখছে। বিজেপি এখন স্বপ্ন দেখছে। ৪মে ফল প্রকাশের পর ওরা মুখ দেখানোর জায়গা পাবে না।