


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের একমাসের মধ্যেই রাজ্যজুড়ে একাধিক পুরসভায় পদত্যাগ করেছেন তৃণমূলের মেয়র এবং চেয়ারম্যানরা। তার জেরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুর পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বসিয়ে সম্পূর্ণ আধিকারিকদের সহযোগিতায় সুষ্ঠু পুর পরিষেবা প্রদানের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। এই পরিস্থিতিতে পুর এলাকার নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেই ক্ষেত্রে একটি টেলিফোন নম্বর দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট দিনে সেই নম্বরে ফোন করলেই সরাসরি মন্ত্রীকে তাঁদের এলাকার পুরসভা সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানাতে পারবেন রাজ্যের পুর এলাকার বাসিন্দারা। সেই ক্ষেত্রে মেয়র-চেয়ারপার্সন না থাকা পুরসভাগুলিকে প্রাধান্য দিয়ে সপ্তাহের একটি করে দিন কয়েক ঘণ্টার এক একটি পুরসভার এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলবেন তিনি। সেই ক্ষেত্রে এই কর্মসূচির নাম ‘টক টু মিনিস্টার’, ‘সমস্যার সমাধানে মন্ত্রী’ বা এই ধরনের নাম হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের এই নয়া উদ্যোগ নিয়ে অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, ‘ওঁরা (তৃণমূলের মেয়র, চেয়ারপার্সন এবং কাউন্সিলাররা) কী করছেন সবাই দেখেছেন। বর্ষার প্রাক্কালে মানুষকে পরিষেবা না দিয়ে চেয়ার ছেড়ে পালিয়েছেন। কিন্তু ওঁরা আমাদের বেকায়দায় ফেলতে পারবেন না। আমাদের আধিকারিকরা লড়াই চালাচ্ছেন। আর আমি আর কিছু দিনের মধ্যেই মানুষের সমস্যা জানতে সরাসরি তাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা বলব। এক একটি পুরসভা এক একদিনে হবে। আগেভাগে জানিয়ে দেওয়া হবে সময়সূচি। নির্দিষ্ট ফোন নম্বর জানানো হবে। ভিডিয়ো কলে যোগাযোগ করা যায় কি না সেটাও দেখে নেওয়া হচ্ছে।’ একাধিক পুরসভায় মেয়র-চেয়ারপার্সনদের পদত্যাগের জেরে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বসাতে হয়েছে রাজ্যকে। গত সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে পৌঁছেছিল। পালাবদলের পর তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। এই অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন ফিরহাদ। তবে তাঁর এই দাবি একেবারে ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছিলেন অগ্নিমিত্রা।
প্রসঙ্গত, ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচির মাধ্যমে কলকাতাবাসীর পুর পরিষেবা সংক্রান্ত অভাব-অভিযোগ শুনতেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। অগ্নিমিত্রার আগে তিনিই ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী। তবে এবার শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের অন্যান্য পুর এলাকার বাসিন্দারা সরাসরি রাজ্যের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা পৌঁছে দিতে পারবেন, এবং সেটাও পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীকে। এই কর্মসূচি চলাকালীন দপ্তরের কর্তারাও উপস্থিত থাকবেন। দপ্তরের এবং সংশ্লিষ্ট পুরসভার আধিকারিকরা একযোগে কাজ করে অভিযোগ সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করবেন। কামাখ্যা মন্দিরে পুজো দিচ্ছেন অগ্নিমিত্রা পাল। -নিজস্ব চিত্র