


হায়দরাবাদ, ১২ মার্চ: দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। দিল্লির বিধানসভা ভোটে বিজেপি কেজরিওয়ালের বাসভবনকে ‘শিশমহল’ বলে দেগে দেয়। আর সেই ‘শিশমহল’ ইস্যুতেই চাপে পড়েন আপ সুপ্রিমো। বিজেপির অভিযোগ ছিল, একাধিক আইন ভেঙে নিজের বাসভবন বানিয়েছেন কেজরিওয়াল। যেখানে সবরকম সুযোগ সুবিধা রয়েছে। গেরুয়া শিবির কটাক্ষ করে সেই বাসভবনকে বলত ‘শিশমহল’। এমনকী সেই ‘শিশমহল’কে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতিও হয়েছে বলে বারবার অভিযোগ করে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই ‘শিশমহল’ ইস্যুই কেজরিওয়ালের হারের অন্যতম কারণ ছিল। এবার আরও এক ‘শিশমহল’ নিয়ে বিতর্ক শুরু হল। আর সেই ‘শিশমহল’-এর ঠিকানা অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের ঋষিকোন্ডা। এই জায়গাতেই ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডির দপ্তর তথা বাসভবন।
এই ‘শিশমহল’কে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে গোদাবরীর তীরে। অন্ধ্রপ্রদেশের বর্তমান সরকার তেলেগু দেশম পার্টির অভিযোগ এই বাসভবন তৈরি করতে গিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন জগন্মোহন। সঙ্গে পরিবেশ আইন ভেঙেছেন তিনি। কী কী রয়েছে এই ‘শিশমহলে’। আনুমানিক ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে এই ভবন। যাতে সোনার কারুকাজ করা রয়েছে, ইতালিয়ান মার্বেলের মেঝে থেকে বিলাসবহুল এবং বহুমূল্য আসবাবপত্র রয়েছে। বিশাখাপত্তনমের ঋষিকোন্ডায় অন্তত ১০ একর জমি জুড়ে থাকা চারটি ব্লক নিয়ে গড়া হয়েছে এই প্রাসাদ। এমনকী, প্রাসাদচত্বরে রয়েছে একাধিক পাকা রাস্তা, বাথরুম, পান করা ও ব্যবহারের জন্য জল সরবরাহের পৃথক ব্যবস্থা। সঙ্গে রয়েছে একটি ১০০ কিলোভোল্টের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনও। যা মানুষের করের টাকাতেই বানিয়েছেন বলে অভিযোগ চন্দ্রবাবুর দলের। অভিযোগ, সিআরজেডের নিয়ম ভাঙা হয়েছে এই প্রাসাদ নির্মাণে। সূত্রের খবর, ২০২১ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রক শুধুমাত্র পর্যটন ক্ষেত্রে কাজের জন্য প্রাসাদ তৈরির অনুমতি দেয়।
টিডিপির অভিযোগ, ওয়াইএসআরসিপি সরকারে থাকাকালীন সেই আইন ভেঙেছিল এবং জগন্মোহন নিজের জন্য বাসভবন বানিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, এই প্রাসাদ বানাতে ঋষিকোন্ডা পাহাড়ের অনেকটা অংশে খনন কাজ চালানো হয়েছিল। যদিও এই ‘শিশমহল’ নিয়ে কোনও তদন্ত হবে কিনা সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছুই জানা যায়নি।