


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শো শেষ হয়ে গেলেও কেবিন থেকে বেরোচ্ছিলেন না যুগল। সন্দেহ হতেই দরজা খুলে দেখা গেল দু’জনই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় আন্দুলের একটি সিনেমা হলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তাঁরা। চিকিৎসাধীন থাকাকালীন বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয়েছে তরুণীর। অন্যদিকে সন্ধ্যায় মৃত্যু হয়েছে চিকিৎসাধীন প্রেমিকের। প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে বয়সের ব্যবধানের কারণে পরিবারের তরফে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। তার জেরেই যুগলের আত্মহননের সিদ্ধান্ত কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন, ডোমজুড়ের লক্ষ্মণপুরের চৈতালি নস্কর (২৫) ও শুভজিৎ সাঁতরা (১৮)।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রেমিক যুগল আন্দুলের একটি সিনেমা হলে ম্যাটিনি শো দেখতে যান। সেখানে একটি কেবিনে বসে সিনেমা দেখার সময়ই তাঁরা কীটনাশক জাতীয় কিছু পান করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। সিনেমা শেষ হওয়ার পরেও দীর্ঘক্ষণ কেবিন থেকে ওই যুগল বের না হওয়ায় হলের কর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে কেয়ারটেকার ভেতরে ঢুকে দু’জনকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বের হচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় সাঁকরাইল থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকে উদ্ধার করে প্রথমে আন্দুল রোড সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে দুজনকে কলকাতার পৃথক দুটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত্যু হয় চৈতালির। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে পরাজিত হন শুভজিৎ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বয়সের পার্থক্যের কারণে তাঁদের সম্পর্কে নিয়ে দুই পরিবারে টানাপোড়েন ছিল। তার জেরেই এই চরম পদক্ষেপ। হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, দুই পরিবারের সঙ্গেই কথা বলা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ওই যুগল বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলে, জটিলতা বৃদ্ধি পায়। শুভজিতের পরিবারের তরফে এ সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। এদিকে মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করার সময় চৈতালি ও শুভজিতের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরেই সেই সম্পর্ক চলছিল বলে পরিবারের দাবি। সম্প্রতি তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। মৃত তরুনীর এক আত্মীয়া জানান, বয়সে ছোট হওয়ায় ছেলেটির পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিয়েতে আপত্তি ছিল। সেই নিয়ে সম্প্রতি ছেলেটির বাড়িতে অশান্তিও হয় বলে তাঁদের দাবি। বুধবার চামরাইল যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আন্দুলের সিনেমা হলে যায় চৈতালি ও শুভজিৎ। এরপরই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।