


সুইৎজারল্যান্ড: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি যেন অধরা মাধুরী! সৌজন্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার সুইত্জারল্যান্ডে ইরান-আমেরিকার আলোচনা চলাকালীন লেবানন প্রসঙ্গে তেহরানের উদ্দেশে তোপ দাগেন তিনি। আর সোমবার তো তাঁর মুখে শোনা যায় সরাসরি ইরান ধ্বংসের হুমকি! এরপর আর আলোচনা এগতে চাননি তেহরানের প্রতিনিধিরা। এবং ট্রাম্পের উদ্দেশে ইরানের পালটা তোপ— হরমুজ কি ওঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি?
কিছুদিন আগেই যুদ্ধ থামানোর প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান। তবে সেই মউ স্বাক্ষর হয়েছিল ভার্চুয়ালি। এরপর রবিবার সুইত্জারল্যান্ডের বুয়েরজেনস্টকে পাহাড়ে ঘেরা রিসর্টে মুখোমুখি বৈঠকে বসেছিল ইরান-আমেরিকার প্রতিনিধিরা। সেই আলোচনা প্রথমে কিছুটা উত্তপ্ত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। নেপথ্যে অবশ্যই ট্রাম্প। রবিবার লেবানন প্রসঙ্গে তিনি হুমকি দেন, ‘ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলিকে থামাতে হবে। না হলে গত সপ্তাহের চেয়েও কঠোর হামলা হবে।’ তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, পরে কয়েকটি বিষয়ে অগ্রগতি হয়। লেবাননের সংঘাত মোকাবিলায় একটি বিশেষ ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হয়েছে ইরান-আমেরিকা।
এদিন ফের শুরু হয় আলোচনা। সূত্রে খবর, প্রথম ৮০ মিনিট আলোচনার পর দু’পক্ষ সাময়িক বিরতি নেয়। এরইমাঝে ট্রাম্প ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন। সুইৎজারল্যান্ডের প্রায় ৫ হাজার মাইল দূরে থেকেও তাঁর মন্তব্যেই ফের উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। এদিন তিনি বলেন, ‘হরমুজ অবরুদ্ধ হলে ছেড়ে কথা বলবে না আমেরিকা।’ সরাসরি ইরান ধ্বংসের হুমকিও দেন ট্রাম্প। জানা গিয়েছে, এরপর আর বৈঠকে যোগ দেয়নি ইরানের প্রতিনিধিরা। ইরানের সরকারি টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই তেহরানের পথে রওনা দিয়েছে। সেদেশেরহ পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা হুমকি দেন, আমরা কাজ করে দেখাই। হরমুজ প্রণালী আপনার ব্যক্তিগত জুয়ার আসর নয়, কিংবা আধুনিক জলদস্যুদের উঠোন নয়। এটি ইরানের সার্বভৌম জলসীমা। এর সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরানের জনগণ ও তাদের সশস্ত্র বাহিনী।’ পর পর ঘটে যাওয়া অস্বস্তিকর ঘটনাগুলি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, দুই দেশের মতপার্থক্য মেটানো এখনও অত্যন্ত কঠিন।