


নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন: উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহাম জয়ী হওয়ার পর থেকেই কিয়ের স্টারমারের উপর চাপ বাড়ছিল। অর্থনীতি সহ একাধিক ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়েন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তাঁর জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকে। মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যও পদত্যাগ করেছেন গত কয়েক সপ্তাহে। এরইমাঝে রবিবার ট্রাম্পের ঘোষণায় গোটা বিশ্বে সাড়া পড়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইস্তফা দিতে চলেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। তাঁকে আগাম শুভেচ্ছাও জানান ট্রাম্প। কয়েকঘণ্টার মধ্যে সেকথাই সত্যি হল। সোমবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন স্টারমার। একইসঙ্গে ছাড়লেন লেবার পার্টির নেতৃত্বও। ফলে এনিয়ে এক দশক বা ১০ বছর ৪৪ দিনের মধ্যে ছ’জন প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার সাক্ষী থাকল ব্রিটেনবাসী। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বার্নহাম। দু’সপ্তাহ আগেও তাঁর নাম কেউ জানতেন না। এদিন স্টারমারের ইস্তফা দেওয়ার পরই লেবার পার্টির এমপি হিসাবে শপথ নেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ জুলাই ১০, ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পা রেখেছিলেন স্টারমার। বছর দুয়েকের মাথায় সোমবার সেখান থেকেই বেরিয়ে এলেন। পাশে ছিলেন স্ত্রী ভিক্টোরিয়া। এদিন রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে বক্তব্য দিতে শুরু করেন স্টারমার। বলেন, ‘আমার দল প্রশ্ন করছে, আগামী নির্বাচনে লেবার পার্টির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি উপযুক্ত কি না! এনিয়ে পার্লামেন্টারি পার্টির উত্তর শুনেছি। আর তা সহজভাবে মেনে নিয়েছি। দেশকে সামনে রেখেই এতদিন প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেইমতো এবার প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি লেবার পার্টির নেতা হিসাবেও ইস্তফা দিচ্ছি। এনিয়ে সকালেই ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে।’ স্টারমারের আরও বার্তা — আগামী দিনে যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তাঁর প্রতি সম্পূর্ণ সমর্থন আশা করি। ভবিষ্যতে ব্রিটেন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। দেশের সবচেয়ে বড়ো চাকরি ছাড়ার পর সেরা স্বামী ও সন্তানদের কাছে সেরা বাবা হয়ে ওঠার চেষ্টা করবেন জানিয়েছেন তিনি। ২০২৪ সালে ঋষি সুনাকের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টিকে হারায় লেবার পার্টি। সেই জয়ের কারিগর ছিলেন স্টারমার। শোনা যাচ্ছে, স্টারমারের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহামই এবার প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে পারেন। অল্পদিনে তাঁর এই উত্থানকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে রাজনৈতিক প্রভাবের জেরে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত বার্নহাম। তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া নাকি শুধু সময়ের অপেক্ষা। লেবার পার্টির ন্যাশনাল এগজিকিউটিভ কমিটি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে আগামী ৯ জুলাই। মনোনয়ন জমার কাজ চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শপথ নেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। তাই ইস্তফা দিলেও আপাতত সেই পদে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন স্টারমার। এদিকে, ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক জানিয়েছেন, বার্নহাম যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে তাঁর সরকার দুর্বল হবে। তাঁকে এমন সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যা তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় ছিল না। তিনি বুঝতে পারবেন, ভালো বক্তা হলেই তা সাফল্য এনে দিতে পারে না। সুনাক জানান, বার্নহামকে বুঝতে হবে তিনি কী করতে চাই