


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আবদার ছিল পছন্দের এক বিশেষ আতশবাজির! ছোটদের জন্য তা বিপজ্জনক—আবদার উড়িয়ে দিয়েছিলেন বাবা-মা। অভিযোগ, তারপর থেকেই অভিমানে গুমরোচ্ছিল ১১ বছরের কিশোরী সঞ্জনা সিং। বাবা সকালেই চলে গিয়েছিলেন অফিসে। দুপুরের দিকে দেওয়ালির কেনাকাটার জন্য বেরিয়ে গিয়েছিলেন মা’ও। আর সেই সুযোগেই ওয়ারড্রোবের মধ্যে গলায় ফাঁস গিয়ে আত্মঘাতী হয় দক্ষিণ কলকাতার হাজরা এলাকার এক নামী স্কুলের ছাত্রী সঞ্জনা। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরের এক বহুতলে। নিছক অভিমান, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে আত্মহত্যার নেপথ্যে, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে আলিপুরের ওই বহুতল আবাসনের ষষ্ঠ তলায় থাকেন কিশোরীর পরিবার। তাঁর বাবা সম্পন্ন ব্যবসায়ী, মা গৃহবধূ। রবিবার প্রতিদিনের মতো বাবা অফিসে চলে যান। দেওয়ালির জন্য পরিবারের লোকজন গত কয়েকদিন ধরে কেনাকাটায় ব্যস্ত। ওই কিশোরীও মায়ের সঙ্গে শপিং করতে যাচ্ছিলেন। নিজের জন্য বেশকিছু কেনাকাটা করেছিলেন। আবদার ছিল এক বিশেষ রকমের আতশবাজির। তা কিনে দেননি অভিভাবকরা।
জানা গিয়েছে, রবিবার বেলা দুটো নাগাদ দেওয়ালির বাকি কিছু কেনাকাটার জন্য সঞ্জনার মা একাই বেরিয়েছিলেন। বিকেলের দিকে ফোনে মার সঙ্গে একবার অল্পকিছুক্ষণের জন্য কথা বলে সঞ্জনা। এরপর মা আর ফোনে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। ডাকাডাকি করার পরেও বাড়ির গেট খোলেনি সঞ্জনা। মা ফোন করে স্বামীর কাছে জানতে চান মেয়ের কোনও ফোন এসেছিল কি না বা কোথাও যাবে বলে জানিয়েছিলেন কি না। কিশোরীর বাবা জানিয়ে দেন, মেয়ের কোনও ফোন আসেনি। গেট না খোলায় মা দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। কিন্তু ফ্ল্যাটের কোনও ঘরে মেয়েকে খুঁজে পাননি। দেখেন মোবাইল পড়ে রয়েছে। মেয়ের বন্ধুদের ফোন করে জানতে পারেন তাঁদের কাছে যাননি। এতে আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মা। আত্মীয়ের ফোন করলেও, তাঁরাও একই কথা জানান। তিনি সন্দেহ করেন মেয়ে কিছু একটা ঘটিয়েছে। সন্দেহের বশেই ঘরে থাকা সমস্ত ওয়ারড্রোবের মধ্যে খুঁজতে শুরু করেন। মা’র ধারণা হয়, খেলতে খেলতে সঞ্জনা ওয়ারড্রোবের ভিতর ঢুকে থাকতে পারে। কারণ মাঝেমধ্যেই সেখানে ঢুকে লুকোচুরি খেলত। একটি ঘরের ওয়ারড্রোবের মধ্যে ওড়নার ফাঁস লাগা অবস্থায় মেয়ের নিথর দেহ খুঁজে পান মহিলা। ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়াশব্দ পাননি। এরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। ফোন করে স্বামীকে বিষয়টি জানান। তিনিও ব্যবসাস্থল থেকে চলে আসেন। খবর দেওয়া হয় আলিপুর থানায়। পুলিশ এসে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সোমবার কিশোরীর ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আত্মঘাতী হয়েছেন ওই কিশোরী।