


‘এতদিন ঈশ্বরের হাত দেখেছে ইংল্যান্ড, পা দেখেনি।’ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালের আগে এমনই পোস্ট করেছিলেন জ্লাটন ইব্রাহিমোভিচ। প্রাক্তন সুইডিশ তারকার এই মন্তব্য একশোয় একশো। বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে লিও মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে ভর করে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন আর্জেন্তিনার। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে দু’হাত আকাশে তুললেন বাঁ পায়ের জাদুকর। পৃথিবীর ওপার থেকেই হয়তো বাঁ হাত উঁচিয়ে তুললেন ডিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনাও। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তাঁর ‘হ্যান্ড অব গড’ আর ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’তে ভর করেই ব্রিটিশ বধ করেছিল আর্জেন্তিনা। চার দশক পর তাঁর দেখানো পথে হেঁটেই ইংল্যান্ড বশ লিও মেসিদের। বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জিতল লায়োনেল স্কালোনি ব্রিগেড। সেই সুবাদে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। রবিবার নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মেসি বনাম ইয়ামাল দ্বৈরথ। লা মাসিয়ার অগ্রজ ও অনুজের এই লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই পারদ চড়তে শুরু করেছে মার্কিন মুলুকে।
গত ম্যাচের প্রথম একাদশে একটি পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। রডরিগো ডে পলের জায়গায় দলে আসেন গুইলিয়ানো সিমিওনে। পছন্দের ৪-৪-২ ছকেই দল সাজান মেসিদের হেডস্যার। পক্ষান্তরে, ইংল্যান্ড একাদশে আসে তিনটি পরিবর্তন। অতীতে বিশ্বকাপের আসরে আর্জেন্তিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ ছিল ঘটনার ঘনঘটা। এদিনও প্রথম মিনিট থেকেই চড়া মেজাজে শুরু হয় লড়াই। সঙ্গে চলে চোরাগোপ্তা মার। প্রথম ১০ মিনিটেই বার সাতেক ফাউলের বাঁশি বাজান মার্কিন রেফারি এলফাত। বিশেষত মেসির পায়ে বল গেলেই ধেয়ে আসেন ইংল্যান্ডের তিন ডিফেন্ডার। ইংল্যান্ড চিরাচরিত লং বল গেমে আর্জেন্তিনা বক্সে চাপ বাড়াতে থাকে। বেলিংহ্যাম-রাইসদের আটকাতে বারবার ফাউলের আশ্রয় নিতে হয় সিমিওনেদের। তার ফলে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা থেকেই ক্রমশ সরে যায় আর্জেন্তিনা।
বিরতির পরও স্কালোনি ব্রিগেডের খেলার ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং নিজেদের অর্ধে ছোটোখাটো ভুলে কাজটাই কঠিন করে তোলেন এনজো-রোমেরোরা। ৫৫ মিনিটে তারই খেসারত দিতে হয় তিনবারের বিশ্বচ্যম্পিয়নদের। নিজেদের অর্ধ থেকে তোলা হ্যারি কেনের লং বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ টাগলিয়াফিকো। সেই বল ধরে আর্জেন্তিনা বক্সের ডানপ্রান্ত থেকে মরগ্যান রজার্সের লো ক্রস খুঁজে নেয় গর্ডনকে। বাঁ প্রান্ত থেকে গতিতে উঠে মোলিনাকে টপকে সেই বল জালে জড়ান এই তরুণ মিডিও (১-০)।
চলতি বিশ্বকাপে পিছিয়ে পড়ে দুরন্ত কামব্যাকের অপর নাম আর্জেন্তিনা। মিশরের বিরুদ্ধে ০-২ থেকে শেষ ১৩ মিনিটের ঝড়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল স্কালোনি ব্রিগেড। এদিনও সেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন আলবিসেলেস্তেরা। প্রত্যাবর্তনের প্রয়াসটাও দারুণ হয়। ৬৯ মিনিটে মেসির সেন্টার থেকে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা নিকো গঞ্জালেসের হেড রোখেন পিকফোর্ড। দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের পর একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন স্কালোনি। ডে পল, মন্তিয়েল ও ওটামেন্ডিকে মাঠে নামান তিনি। বদল আসে ফর্মেশনেও। উইংয়ে ডানা মেলতেই বদলে যায় আর্জেন্তিনা। ৭৪ থেকে ৭৭ মিনিটের মধ্যে তিনবার গোল করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল তারা। ডে পলের ক্রস থেকে অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লাগে।
আর্জেন্তিনা লড়াই চালালেও ঘড়ির কাঁটা ক্রমশ এগতে থাকে। ৮১ মিনিটে লাওতারোকে এনে অল-আউট ঝাঁপান স্কালোনি। এই পর্বে ১০ জনে নেমে দুর্গ অক্ষত রাখার লড়াই চালায় ইংল্যান্ড। তবে মাঠে যখন মেসি আছেন, তখন চিন্তা কীসের! ৮৫ মিনিটে এলএমটেনের গড়া আক্রমণ থেকে এনজো ফার্নান্ডেজের দূরপাল্লার শট আছড়ে পড়ে ইংল্যান্ড জালে (১-১)। আর সংযোজিত সময়ে আবার মেসির ঠিকানা লেখা সেন্টার থেকে দুরন্ত হেডে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন সুপার-সাব লাওতারো (২-১)।