


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পুরসভার ভাঁড়ে মা ভবানি অবস্থা। আয় বাড়াতে প্ল্যান বহির্ভূত নির্মাণকেও অনুমোদন দিয়ে টাকা আদায় করছে বরানগর পুরসভা। তাতেও সমস্যা মিটছে না। এদিকে, প্রায় তিন বছর বকেয়া টাকা না মেলায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছে পুরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের ঠিকাদাররা। তাঁরা পুরসভায় চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, বকেয়ার ৬০ ভাগ টাকা না পেলে তাঁদের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাঁদের মোট বকেয়ার পরিমাণ প্রায় দু’কোটি টাকা।
পথবাতি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শহরের বহু এলাকায় এখন সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকার। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা সার্ভিস রোডের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, অলিগলিতে স্ট্রিট লাইট বিকল। ভয় ও আতঙ্ককে সঙ্গী করেই চলাচল করছেন শহরবাসী। যদিও পুরসভার তরফে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বরানগর পুরসভায় মোট ওয়ার্ড ৩৪টি। প্রতিটি ওয়ার্ডের মূল রাস্তা ও অলিগলির পাশাপাশি জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কের পথবাতি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পুরসভার। এই কাজের জন্য পুরসভার পর্যাপ্ত কর্মী নেই। তাই ন’জন ঠিকাদারের হাতে পথবাতি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই ঠিকাদাররা প্রায় তিন বছর ধরে টাকা পাচ্ছেন না। সম্প্রতি তাঁরা পুর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, কেউ ২৬ মাস, কেউ ৩৮ মাস আমরা প্রাপ্য টাকা পাইনি। অথচ, প্রতি মাসে শ্রমিক-কর্মীদের মজুরি দিতে হচ্ছে আমাদের। এই পরিস্থিতিতে বকেয়ার অন্তত ৬০ ভাগ না মেটালে কাজ করা অসম্ভব। বেকায়দায় পড়ে পুরসভা ঠিকাদারদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল। কিন্তু তাতে সমাধান সূত্র বের হয়নি। তার পরিণতিতে গত দু’-তিন মাস পথবাতি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ কার্যত বন্ধ। ফলে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের বরানগর পুরসভা এলাকা সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে ঢাকছে। সার্ভিস রোড ধরে ডানলপ পর্যন্ত এলাকাতেও একই পরিস্থিতি। গঙ্গার পাড় লাগোয়া অনেক পথবাতি খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। শহরের বহু পার্ক ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকাতেও সন্ধ্যার পর আলো থাকছে না। এই সুযোগে নেশাড়ুদের দাপট বাড়ছে। দুর্গাপুজোর আগে এই সমস্যা মিটবে নাকি, শহর আঁধারেই ডুবে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান অপর্ণা মৌলিক বলেন, আর্থিক সমস্যা রয়েছে। তারমধ্যেও ঠিকাদারদের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাছাড়া বর্ষার সময় একটু বেশি পথবাতি খারাপ হয়। আশা করছি, দ্রুত সমাধান হবে।