


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অতলান্তিক মহাসাগরে জলরাশির বুকে সাতদিন ধরে নিখোঁজ অশোকনগরের কাঁকপুলের বাসিন্দা শ্রীকৃষ্ণ সরকার (৪৫)। প্রতিটি ঘণ্টা পেরনোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবারে বাড়ছে উদ্বেগ। ঘনাচ্ছে দুঃশ্চিন্তার ছায়া। বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ‘সন্ধান চলছে’ ছাড়া কিছুই শুনতে পাচ্ছে না পরিবার। তাঁর হদিশ পেতে সোমবার কলকাতার নেভি ইউনিয়ন অফিসে দরবার করে পরিবারের সদস্যরা।
জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার নরওয়ে জলসীমায় ঘটনাটি ঘটে। সিমেন্ট বোঝাই জাহাজ মালটা থেকে আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। জাহাজের মাঝ ডেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্রীকৃষ্ণবাবু। অভিযোগ, আচমকা পাহাড়প্রমাণ ঢেউ ডেক ভাসিয়ে তাঁকে সমুদ্রে টেনে নিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যান তিনি। জাহাজ কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গেই তল্লাশি শুরু করে। পরে নরওয়ে পুলিশ হেলিকপ্টার, স্পিডবোট ও ডুবুরি নামিয়ে খোঁজ চালায়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ভিডিয়ো কলে বাড়ির সঙ্গে যুক্ত হন শ্রীকৃষ্ণ। সেদিনই ছিল তাঁর ১৪ বছরের ছেলে ভাস্করের জন্মদিন। সমুদ্রের মাঝখান থেকে ছেলের কেক কাটা দেখেন তিনি। হাসিমুখে আশীর্বাদ জানান। স্ত্রী রাখিকে বলেন, কাজ শেষ করেই দ্রুত বাড়ি ফিরবেন। পরের দিন রাতেও ফোন করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি মতো ফোন এল না। তার আগেই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ মার্চেন্ট নেভি সংস্থা ফোন করে নিখোঁজ হওয়ার খবর জানায় পরিবারকে। এরপর থেকেই অশোকনগরের বাড়িতে যেন সময় থমকে আছে। স্ত্রী রাখি সরকার, তিন বছরের কন্যা ঐশী ও ১৪ বছরের ছেলে ভাস্করদের প্রশ্ন, কোথায় গেলেন শ্রীকৃষ্ণ? পরিবারের দাবি, সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে অসাবধানতাবশত মাঝসমুদ্রে পড়ে যান শ্রীকৃষ্ণ। ঘটনার সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে চেয়ে সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়েছেন শ্যালক সোম সরকার। তাঁর অভিযোগ, ‘সন্ধান চলছে’ আশ্বাস ছাড়া স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সোমবার কলকাতার নেভি ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে আধিকারিকদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন সোমবাবু।
কিন্তু যত দিন গড়াচ্ছে, ততই দুঃশ্চিন্তা বাড়ছে। উত্তাল অতলান্তিকের বুক কি কাউকে ফিরিয়ে দেয়? তবু আশা ছাড়তে নারাজ পরিবার। প্রতিটি ফোন বেজে উঠলেই চমকে উঠছেন নাবিকের স্ত্রী রাখি সরকার। এই বোধহয় স্বামীর খবর এলো!