


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৫০ বছরের প্রাচীন কাশীপুর রাসবাটির গোপীনাথ মন্দির। সেখানে স্নানযাত্রার দিন জগন্নাথদেব নয়, রাধা‑কৃষ্ণের যুগল মূর্তিকে বিশাল কারুকার্য শোভিত তামার গামলায় ১০৮ ঘড়া জল দিয়ে স্নান করানো হয়। স্নানের জলে মেশানো হয় ৩৫ রকমের সুগন্ধি ও নানা ফুলের পাপড়ি। সঙ্গে গন্ধরাজ লেবুর পাতা। তার আগে রাধা‑কৃষ্ণের কষ্টি ও পিতল মূর্তির মাথায় মাখানো হয় সুগন্ধি ঠান্ডা তেল। এরপর মূল মন্দিরের দরজা বন্ধ করে চলে স্নানপর্ব। রাধা‑কৃষ্ণের মূর্তি স্নান করানোর পর বাড়ির কুলদেবতা নারায়ণ শিলাকে স্নান করানোর পালা। তাঁকে সুগন্ধিযুক্ত জল দিয়ে স্নান করানো হয়। কলকাতার নতুনবাজার থেকে আনা হয় এই সমস্ত সুগন্ধি দ্রব্য।
এই বিশেষ দিনে উত্তর কলকাতার রতনবাবু রোডের এই মন্দিরে ধুমধাম সহকারে চলে নানা পুজো‑অর্চনা। রাসবাটির তরফে তুষার দে জানান, ‘স্নানযাত্রার এই বিশেষ দিনে রাধা‑কৃষ্ণকে নিবেদন করা হয় নানা মরশুমি ফল। তার মধ্যে প্রথা মেনে দেওয়া হয়ে থাকে আম, কাঁঠাল, লিচু ও জাম। তার সঙ্গে থাকে নানান নৈবেদ্য এবং রকমারি মিষ্টি। পুজোকে ঘিরে ভক্তদের ঢল নামে। দূর‑দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন এই বিশেষ দিনে মন্দির দর্শন করতে।’ তুষারবাবুর স্ত্রী গোধূলি দে জানান, ‘স্নানযাত্রার দিন এই মন্দিরের রাধা‑কৃষ্ণের মূর্তিতে পরানো হয় জমকালো নানা পোশাক ও অলঙ্কার। এর সঙ্গে মন্দিরের যে সিংহাসনে রাধা‑কৃষ্ণের যুগল মূর্তি অধিষ্ঠান করেন তা লতাপাতা ও ফুলমালা দিয়ে সাজানো হয়ে থাকে। সন্ধ্যায় হয় বিশেষ আরতি ও কৃষ্ণ আরাধনা।’ -নিজস্ব চিত্র