


সংবাদদাতা, কাটোয়া : আউশগ্রামের এড়ালে মা মাটি পার্ক বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে৷ ঝোপঝাড়ে ঢেকেছে গোটা পার্ক৷ শিশুদের জন্য তৈরি পার্কের দরজা এখন বন্ধ। অথচ কোটি টাকা খরচা করে পার্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরিচর্যার অভাবে পার্কের বেহাল অবস্থা হয়ে গিয়েছে৷ স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পার্কটি সংস্কার করে ফের আগের অবস্থায় ফেরানো হোক। আউশগ্রাম-২ ব্লকের এক আধিকারিকের কথায়, আমরা ওই পার্কটির বিষয় বিধায়কের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যটন বিভাগকে জানাব৷
জানা গিয়েছে, আউশগ্রাম-২ ব্লকের এড়াল পঞ্চায়েতের পিছনে ২০১৯-২০ সালে এমজিএনআরজিএস প্রকল্পে তৈরি হয়েছিল৷ নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মা মাটি পার্ক’। প্রায় দু’কোটি টাকা খরচ হয়েছিল৷ পার্কটি নির্মাণের পর সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসার জন্য চেয়ার, শিশুদের বিনোদনের জন্য পুকুরে বোটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্যায়ন হয় এলাকা। শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইডার আনা হয়৷ এখন সব বেহাল অবস্থা হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে পার্কটি ঝোপঝাড়ে ঢেকে গিয়েছে৷ সীমানা পাঁচিল ভগ্নপ্রায় হয়ে গিয়েছে৷ বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে ঝোপঝাড়৷ অথচ আগে সেখানে এলাকার পাশাপাশি পর্যটকদের বড়ো পছন্দের জায়গা ছিল ওই পার্ক৷ নজরাদারির অভাবে সরকারি টাকা নয়ছয় ছাড়া আর কিছুই হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁরা বলছেন, প্রশাসন যদি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করত পার্কটির তাহলে ছবিটা ভিন্ন হত৷ তাহলে আউশগ্রামের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারত ‘মা মাটি পার্ক’। কারণ পার্কটির কিছু দূরেই রয়েছে ভালকি মাচানের জঙ্গল। প্রতিবছর এখানে পর্যটকরা আসতেন৷ এখন শুধু শশ্মানের চেহারা নিয়েছে৷
স্থানীয় বাসিন্দা বিমল ঘোষ বলেন, পার্কটি যদি ন্যূনতম টিকিটের বিনিময়ে চালু করা হত, তাহলে এলাকার সবাই এখানে এসে সময় কাটাতে পারতেন। শিশুরাও বিনোদনের সুযোগ পেত। একইসঙ্গে পঞ্চায়েতেরও একটা নিজস্ব তহবিলে বাড়ত আয়। এখন পার্কের যে অবস্থা, তাতে মানুষ তো দূরের কথা, গোরু-ছাগলও ঢুকতে ভয় পাবে। রাইডারগুলিতে সাপের আনাগোনা৷ কার্যত সেগুলি মৃত্যুফাঁদ হয়ে রয়েছে৷ সব ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে৷
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষনের জন্য এমজিএনআরসিএস থেকে আগে অর্থ মিলত৷ এখন সেটাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ তাই পার্ক নতুনভাবে চালু করতে হলে আরও অনেক টাকা লাগবে৷ সেটা পঞ্চায়েতের নেই৷ প্রশাসন যদি নতুন করে উদ্যোগ নেয়৷ তাহলে আবার এড়ালে মা মাটি পার্ক সেজে উঠতে পারে। -নিজস্ব চিত্র