


বাণীব্রত গোস্বামী: মোবাইলটা হঠাৎ বেজে উঠল অনিমেষ মুখার্জির। মাথা গুঁজে অফিসে কাজ করছিল। বিরক্তির এক টুকরো মেঘ, মুখের ওপর। তাকে পাশ কাটিয়ে স্ক্রিনের ওপর দৃষ্টিটা টেরিয়ে ফেলল। মল্লিকা! হঠাৎ এখন! গলায় একরাশ উচ্ছ্বাস, ‘জানো... একটা দারুণ খবর আছে, বকুল গাছটা কাটতে এসেছে।’
‘মানে?’
‘হ্যাঁ গো, গাছ কাটার গাড়ি নিয়ে এসেছে।’
‘দত্তবাবু কোথায়?’
‘নীচে দাঁড়িয়ে আছে তো?’
‘ঠিক আছে রাখ। আমি দত্তদাকে ফোন করছি।’
অনিমেষের মুখে আকস্মিক দুঃসংবাদের ছায়া। দত্তবাবু ফ্ল্যাটের সেক্রেটারি। কিন্তু তা হলেও বা! কাউকে না জানিয়ে গাছ কাটার সিদ্ধান্তটা কি নেওয়া ঠিক হল? ফোন করল দত্তবাবুকে।
‘হ্যালো, বল।’
‘গাছটা কাটার সিদ্ধান্তটা নিলেন, আমাকে একবার জানাবার প্রয়োজন মনে করলেন না দত্তদা!’
‘দেখ অনিমেষ, সামান্য একটা বকুল গাছ কাটা নিয়ে যদি জেনারেল মিটিং ডাকতে হয়, তাহলে তো মুশকিলের ব্যাপার!’
‘আপনি তাহলে প্রোমোটারের সঙ্গে আমার চুক্তিপত্রটাই ভালো করে পড়েননি। ওখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, গাছটা কোনোদিনই কোনো কারণ দেখিয়ে কাটা যাবে না।’
‘আরে ভাই! তুমি তো অবান্তর কথা বলছ অনিমেষ! শুকনো পাতা, ফুল পড়ে কমন প্যাসেজটা নোংরা হচ্ছে। দুনিয়ার পাখির উৎপাত গাছে। সারাদিন জায়গাটা অপরিচ্ছন্ন। সবার সঙ্গে কথা বলে নিয়েছি। সবাই এককথায় রাজি। তুমি একা বাধা দিলে তো হবে না!’
‘আমি এক্ষুণি ওখানে আসছি। ততক্ষণ দাঁড়ান। দয়া করে গাছটা কাটা শুরু করবেন না।’
‘আরে! ওরা তো কর্পোরেশনের লোক! দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি এতক্ষণ?’
‘আমি কিন্তু মামলা ঠুকে দেব, বকুল গাছটার একচুল ক্ষতি হলে!’
এবার সত্যিই একটু অবাক হলেন দত্তবাবু। সামান্য একটা বকুল গাছের জন্য এরকম করছে কেন অনিমেষ! ও যদি ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’ ভাবনার কোনো বৃক্ষদরদি মানুষ হত, তাহলে না হয় মানা যেত। কিন্তু তা তো নয়। ইলেকট্রিক সাপ্লাই এসে তো কত সময় কত গাছ কেটে ছেঁটে দিয়ে যায়! সাইক্লোনের পরে কর্পোরেশনের লোক এসে কত বিপজ্জনক গাছই তো কেটে দিয়ে গেল। কই তখন তো কোনো টনক নড়েনি অনিমেষের। যত মায়া এই বকুল গাছটার ওপর! জানি না কেন বাবা! এত হেদিয়ে মরছে! কে জানে! যাক গে! ঝামেলা বাড়িয়ে আর লাভ নেই। তিনি আপাতত সামাল দিলেন, ‘ঠিক আছে অনিমেষ, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে এসো, ওদের দাঁড় করিয়ে রাখছি।’
অফিস থেকে বেরিয়ে একটা সিগারেট ধরাল অনিমেষ। ছটফট করছে। কপাল ভালো। একটা হলুদ ট্যাক্সি পেয়ে গেল। কম করে আধঘণ্টা তো লাগবেই। তবে অনিমেষের মনে হচ্ছে যেন এক যুগ। ট্যাক্সির জানলা দিয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছাড়ছে। তার ভেতর পাক খাচ্ছে অনেক পুরানো স্মৃতি।
হন্তদন্ত হয়ে ট্যাক্সি থেকে নামল অনিমেষ। অনিমেষের গলা পেয়ে মল্লিকাও সিঁড়ি দিয়ে ছুটে নেমে এসেছে। এতক্ষণ ধরে ফ্ল্যাট বাড়িতে সবার মধ্যেই একটা চাপা গুঞ্জন। তাতে মল্লিকাও একটু অবাক। সত্যিই তো গাছটা কেটে দিলে কী এমন ক্ষতি হত! সবাই তো ঠিকই বলছে। সত্যিই ফ্ল্যাটের পিছন দিকটায় গাছটার জন্য বড্ড নোংরা হয়। তবে মল্লিকা ভালো করেই জানে এই গাছ অনিমেষ কিছুতেই কাটতে দেবে না। ওর ভয় অশান্তিটা নিয়ে। সকলে মিলে যদি চাপ দেয়, তখন অনিমেষ হয়তো মেজাজ হারাবে। ঘটনাটা কতটা গভীরে চলে যাবে, কে জানে! ভয়টা সেখানে। কারণ মল্লিকার জানা আছে, নিজেদের বাড়ি থাকতেও দীর্ঘ দশ বছরে গাছটা কাটাতে পারেনি মল্লিকা। তখন ওদিকটায় কলতলা ছিল। সারাদিনে পঞ্চাশবার জায়গাটা ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করতে হত। তবু গাছটা কাটার কথা বললেই খেপে যেত অনিমেষ। এমনিতে মানুষটা খুব নরম প্রকৃতির। স্বামী হিসেবে বেশ মানানসই। মল্লিকার মন জুগিয়েই চলে। সব কিছুতেই স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে। শুধু এই একটা ব্যাপারেই ভীষণ একগুঁয়ে। ওর মাথার একমাত্র পোকা ওই বকুল গাছ।
ট্যাক্সি থেকে নেমেই অনিমেষ দত্তবাবুর দিকে আঙুল তুলেই বলে উঠল, ‘গাছটা কোনোমতেই কাটা যাবে না। সেটা তো ফ্ল্যাট কেনার সময় জেনে বুঝেই কিনেছেন। আমি সেই কারণেই প্রমোটারের সঙ্গে চাঁচাছোলা কথা বলে নিয়েছিলাম আগেই এবং লিখিতও করে নিয়েছিলাম। গাছ কোনোমতেই যেন কাটা না যায়। এখন আবার এতদিন পর সেই প্রশ্ন উঠছে কী করে!’
দত্তবাবু নরম সুরেই পালটা বোঝাতে লাগলেন, ‘দেখ অনিমেষ, সব ঠিক আছে। দলিলে লেখাও আছে যে গাছ কোনোদিন কাটা যাবে না। কিন্তু তবুও তো একটা সামান্য গাছ। সকলেরই অসুবিধে হচ্ছে। তাই বলছিলাম আর কী...’
এবার অনিমেষ রীতিমতো উত্তেজিত। সকলেই একটু অবাক। অনিমেষ যেন একটু বেশিই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলছে গাছটার দরদে। ফস করে বলেই বসল, ‘আজ একটা পরিষ্কার কথা শুনে রাখুন সবাই, এই গাছের যদি কেউ ক্ষতি করার চেষ্টা করে আমার থেকে বেশি খারাপ আর কেউ হবে না! ব্যাপারটা কিন্তু মামলা-মকদ্দমা পর্যন্ত গড়াবে। এই বকুল গাছ চিরকাল থাকবে জেনেই কিন্তু আপনারা এই ফ্ল্যাট কিনেছিলেন।’
অনিমেষের ব্যবহারে সকলেই বেশ বিস্মিত। সাধারণত নির্বিবাদী শান্ত প্রকৃতির মানুষ বলেই ওকে সবাই জানে। শেষে দত্তবাবু কর্পোরেশনের লোকেদের প্রাপ্য পয়সা দিয়ে বিদায় করলেন। মল্লিকারও সব পুরানো কথা মনে পড়তে লাগল।
সে’সব বছর পনেরো আগের কথা। এক সোনা ঝরা শীতের সকালে নতুন বউ হয়ে এই বাড়িতে পা রেখেছিল মল্লিকা। তখন শ্বশুর-শাশুড়ি সবাই ছিলেন। আর খেয়াল করেছিল উত্তরের কোণায় ওই বকুল গাছটিকে। তারপর সময়ের নিয়মে সব একে একে চলে গেলেন। সংসারের রাশ হাতে এল মল্লিকার। গলার জোর বাড়ল। মতামতের খুঁটি শক্ত হল। তবে মল্লিকার সব কথাই মেনে নিত অনিমেষ। ফলে অশান্তি কোনো কিছু নিয়েই বড়ো একটা হত না। শুধু মাঝেমধ্যে, বিশেষ করে চৈত্র মাসের দিকে শুকনো পাতা পড়ে খুব নোংরা হত কলতলাটা। পাখিরাও সারাবছর ওই বকুল গাছটায় খুব উৎপাত করত। অনেক পাখি বাসা বাঁধত ওখানে। কিন্তু ওদের সুখের সংসারের জ্বালায়, মল্লিকার সংসারে কোনোসময় অশান্তি লেগে যেত। তবু অনিমেষ এই একটা ব্যাপারে একেবারে অনড়। বকুল গাছ সে কিছুতেই কাটবে না। এমনকি একটা ডালও ছাঁটতে দেবে না। মল্লিকা অনেকবার জানতে চেয়েছে, ‘কী আছে গো ওই গাছটাতে?’
অনিমেষ একদিন বলেছিল, ও নাকি নিজের হাতে এটা বসিয়েছিল। তাই একটা মায়া পড়ে গিয়েছে ওর। সন্তানের মতো। তারপর আর কোনোদিন তেমন ঘাঁটায়নি মল্লিকা। রাস্তা ক্রমশ উঁচু হতে লাগল। সেই তুলনায় বাড়ি চলে গেল রাস্তার নীচে। বর্ষায় জল গড়িয়ে ঘরে ঢোকে। বাধ্য হয়ে বাড়ি প্রমোটিং-এ দেওয়ার মনস্থ করল। তবু শর্ত ওই একটাই যে বকুল গাছটা কোনোমতেই কাটা যাবে না। লিখিত থাকবে দলিলে। যারা নতুন ফ্ল্যাট কিনে নিয়ে আসবে তাদেরও এই শর্ত মানতে হবে। সেই কথা মতোই অনিমেষের বাবার করা বাড়ি প্রোমোটিংয়ে দেওয়া হল। মল্লিকাও বাঁচল, বকুল গাছও বেঁচে গেল। তবু মল্লিকার মনের ঈশান কোণে এক টুকরো কালো মেঘ জমেই থাকল। যার ভেতরে জলভরা ভারী বাষ্পকণার মতো একটাই প্রশ্ন লুকিয়ে থাকল, ‘কী আছে ওই গাছটাতে!’
....
এইভাবেই বছর তিরিশ কেটে গেল। প্রায় দশ বছর হল, অনিমেষ এখন রিটায়ার্ড। বুড়ো হয়ে গিয়েছে। বয়স প্রায় সত্তরের কোটায়। বকুল গাছের গায়েও সময়ের মলিনতা স্পর্শ করেছে। গাছের বাকলে দীর্ঘ পাঁচ দশকের বলিরেখা। তার ওপর কয়েক যুগ ধরে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ের কুঞ্চন-চিহ্ন। অনিমেষের শরীর এখন আর দেয় না, তবু নানারকম সার এনে এখনও যত্ন করে বকুল গাছের। বসন্তে নতুন করে কচি পল্লব বেরলে আনন্দ পায়। আবার সবুজের ছোঁয়া লাগে গাছটাতে।
অনেক রোগ এসে এখন বাসা বেঁধেছে অনিমেষের শরীরে। মাঝেমাঝে ভয় লাগে মল্লিকার। ওদের একটাই মেয়ে। বিয়ে হয়ে গিয়েছে। থাকে আমেরিকায়। জামাই ইঞ্জিনিয়ার। মল্লিকার সবসময় একা হয়ে যাওয়ার ভয়। যদি মানুষটা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। কীভাবে একা দৌড়ঝাঁপ করবে! এইসব সাত-পাঁচ ভাবে সারাক্ষণ। অনিমেষের মাঝেমধ্যে বুকে ব্যথা হয়। ওষুধ খায়। কমে যায়। হৃদয় যে কেন ব্যথা দেয়, কে জানে! হৃদয়ের তো শুধু একটাই কাজ। সারা শরীরে রক্তের স্রোত বইয়ে দেওয়া। তবু কেন যে অন্য অনেক অকাজে জড়িয়ে পড়ে, বোঝা দায়। তাই বোধহয় মাঝেমধ্যে ব্যথা দিয়ে, বয়সটাকে জানান দেয়।
সেদিন চৈত্রসংক্রান্তি। পরদিন ভোরে উঠে মন্দিরে পুজো দিতে যাবে অনিমেষ আর মল্লিকা। মল্লিকা উঠে পড়েছে তাড়াতাড়ি। স্নান সেরে অনিমষকে ডাকছে। তবু উঠছে না। গায়ে ঠেলা দিল। চমকে উঠল মল্লিকা। অনিমেষ অজ্ঞান। তবে এখনও শরীরে প্রাণ আছে মনে হয়। তাড়াতাড়ি আশপাশে খবর দিল। অ্যাম্বুলেন্সে যাওয়ার সময় মনে হল অস্ফুট শব্দে কিছু বলতে চাইছে অনিমেষ। আর কেউ কিছু বুঝল না। মল্লিকার মনে হল বোধহয় ‘বকুল’ শব্দটা বলার চেষ্টা করছে। মল্লিকা হাত দিয়ে আশ্বস্ত করল। আবার চোখ বন্ধ হল অনিমেষের।
অনিমেষ শুয়ে আছে নার্সিংহোমের কেবিনে। নাকে অক্সিজেনের নল, মুখে রাইলস্ টিউব, সারা গায়ে অজস্র ছুঁচ বিঁধে আছে। সামনের মনিটরে সবুজ আলোয় খেলা করছে জীবন-মৃত্যু। ডাক্তারবাবু কোনো আশার বাণী শোনালেন না। মনটা বড়ো খারাপ হয়ে গেল মল্লিকার। তবু বাড়ি ফেরার সময় দেখল বকুল গাছের গোড়াটা বড্ড শুকনো। একে চৈত্রমাস! বহুদিন বৃষ্টি নেই। চারদিক তৃষ্ণার্ত। দুপুরে একটু জল দিল বকুল গাছটার গোড়ায়। মনে হল গাছটা যেন একটু চনমন করে উঠল।
পরদিন জ্ঞান ফিরল অনিমেষের। বিকেলে ভিজিটিং আওয়ার। আত্মীয়স্বজন আর কিছু পুরানো অফিস কলিগ, খবর পেয়ে এসেছে। দু’-চারজন পাড়া প্রতিবেশীও আছে। একজন করে যাওয়ার অনুমতি। হঠাৎ একজন মধ্য ষাটের মহিলা এগিয়ে এলেন মল্লিকার দিকে। মল্লিকা তাকে চেনে না। সে আগ বাড়িয়েই বলে উঠল মল্লিকাকে, ‘আপনি আমাকে চিনবেন না, আমি বহুবছর আগে আপনাদের পাশের বাড়ির নীচে ভাড়া থাকতাম। জেঠিমা, মানে অনিমেষদার মা আমাকে খুব ভালোবাসতেন। আমি খবরটা পেয়ে এলাম। একবার দেখা করা যাবে?’
‘নিশ্চয়ই। একজন ভেতরে গিয়েছেন। উনি এলে আপনি যাবেন।’
কিছুক্ষণ পর ভদ্রমহিলা মল্লিকার হাত থেকে কার্ড নিয়ে অনিমেষের কেবিনে প্রবেশ করলেন। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই বেরিয়ে এলেন। বেশি সময় নিলেন না। মল্লিকারও বয়স্ক মহিলার চোখ। অপরিচিত মহিলার মৃদু মলিন হাসি দিয়ে ঢাকা ভেজা চোখ মল্লিকার দৃষ্টি এড়াল না। মল্লিকা একটু এগিয়ে দিতে গেল ওঁকে গাড়ি পর্যন্ত। ভদ্রমহিলা ঠিক গাড়িতে ওঠার আগেই মল্লিকা প্রশ্ন করল, ‘আপনার নামটা কিন্তু জানা হল না!’
‘আমার নাম বকুল।’
‘বকুল কী?’
‘এখন বিশ্বাস, বিয়ের আগে মিত্র ছিল।’
‘আমাদের বাড়িতে এখনও বকুল গাছটা আছে কিন্তু!’
‘ও মা তাই! আমার নাম বকুল বলে ক্লাস টেনে কর্মশিক্ষায় বৃক্ষরোপণের জন্য রমা দিদিমণি ওই চারাটাই আমাকে দিয়েছিলেন। আমাদের বাড়িওয়ালা নিজের জমিতে বসাতে দেননি। তাই অনিমেষদাদের বাড়ির কোণায় বসিয়েছিলাম।’
‘বাহ, আপনি খবর পেলেন কীভাবে?’
‘পুরানো পাড়ার একজনের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল। সে-ই বলল। এখন আসি। নমস্কার।’
‘নমস্কার।’
সবার দেখা-সাক্ষাৎ হয়ে যাওয়ার পর, সবশেষে মল্লিকা কেবিনে ঢুকল। আজ অনিমেষকে অনেকটা সতেজ লাগছে। কিছুক্ষণ পরেই ভিজিটিং আওয়ারের ঘণ্টা। মল্লিকা অনিমেষের হাতে হাত রেখে বলল, ‘এবার উঠি?’
অনিমেষ ক্ষীণ স্বরে বলে উঠল, ‘বাড়ি যাব।’
‘এই তো ক’দিন পরেই ডাক্তারবাবু ছুটি
দিয়ে দেবেন।’
মল্লিকা গাড়িতে ফিরছে, জানলা দিয়ে দেখল আকাশের একদিকে সূর্য প্রায় ডুবে গিয়েছে। পশ্চিম আকাশ তখনও আবিরে মাখামাখি। পুব আকাশে সূর্য পুরো ডোবার আগেই চাঁদ হালকা হলেও দেখা দিয়েছে। মল্লিকার গায়ে সন্ধের মৃদু হাওয়া লাগছে। মল্লিকা ভাবছে, প্রায় চল্লিশ বছর ধরে সারা হৃদয় জুড়ে থাকার পরেও এক মুহূর্তের জন্য ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি যে ওই হৃদয়ে আরও কোনো গহিনে একটা গোপন প্রকোষ্ট আছে। যেখানে তার প্রবেশাধিকার হয়তো আজও নিষিদ্ধ। সেখানে হয়তো শিকড় গেঁথে পাকাপোক্ত বাসা বেঁধে আছে অন্য কেউ। ঈশ্বর জানেন, বকুলকে কে খবর দিল! তবে আর ক’দিনই বা বাকি! জীবন তো প্রায় হয়েই এল! ভালো থাকুক অনিমেষ, ভালো থাকুক ওর বকুল গাছ, ভালো থাকুক বকুল বিশ্বাস নাকি মিত্র! মানুষ হারিয়ে গেলে মানুষ বোধহয় এরকমই
পাগল হয়!