


ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে ফের হামলা চালাল বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। বিদ্রোহীদের পেতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণে সোমবার প্রাণ গেল সাতজন পাক সেনার। ইসলামাবাদের তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে। যদিও বিএলএ’র দাবি, দু’টি পৃথক হামলার মৃত্যু হয়েছে ১৪ জন পাক সেনার। জানা গিয়েছে, সোমবার বালুচিস্তানের গদর বন্দরের কাছে হামলা হয়। বন্দর সংলগ্ন জিওয়ানি শহরে সাঁজোয়া গাড়িতে টহল দিচ্ছিল সেনার ওই দলটি। সম্ভবত রাস্তার পাশে আইইডি রাখা ছিল। সেনার গাড়িটি সেখানে যেতেই দূরনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বেশ কয়েকজন পাক সেনার। গুরুতর আহত অবস্থায় বাকিদের কাছের সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, গুঁড়িয়ে গিয়েছে গাড়িটি। গত ২৬ এপ্রিলও আইডি বিস্ফোরণে ১০ জন আধাসেনার মৃত্যু হয়। সেই ঘটনারও দায় স্বীকার করেছিল বিদ্রোহীরা। এছাড়া কয়েকদিন আগেই বালুচিস্তানের কালাত জেলার মঙ্গোচের শহরে হামলা চালায় বিএলএ। তারপর থেকে পুরো শহরের দখল নিয়েছে তারা। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সমস্ত সরকারি কার্যালয়। অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে কোয়েটা-করাচি হাইওয়ে।
গদর বন্দর সহ সংলগ্ন এলাকা চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের অংশ। পুরো বালুচিস্তান প্রদেশই বিভিন্ন খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ। সেখানে চীনের আর্থিক সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে পাকিস্তান। কিন্তু স্থানীয় বালোচদের ঠাঁই হয়নি। উল্টে তাদের উপর আরও অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে। তাই চীনের সাহায্যে তৈরি হওয়া পরিকাঠামোয় পাল্টা হামলা শুরু করেছে স্বাধীনতাকামী বালোচ বিদ্রোহীরাও। এর আগে তারা চীনের নাগরিকদের উপরও হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরের মার্চেই কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস হাইজ্যাক করে বিদ্রোহীরা। দু’দিন ধরে গোটা ট্রেন দখল করে রাখে তারা। ঘটনায় শতাধিক পাক সেনা ও আধাসেনা এবং আইএসআই সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল।