


ইসলামাবাদ: পাকিস্তান সরকারের উপর চাপ ক্রমশ বাড়াচ্ছে ‘স্বাধীনতাকামী’ বালোচ বিদ্রোহীরা। বাড়ছে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও। তাদের একের পর এক হামলায় নাকানি-চোবানি খাচ্ছে ইসলামাবাদ। রবিবার বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) জানিয়েছিল, ৫১টি জায়গায় অন্তত ৭১টি হামলা চালানো হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয় অপারেশন হেরফ। সোমবার কাচ্ছি জেলার আরও একটি পুলিস চেকপোস্ট দখল করল বিদ্রোহীরা। একইসঙ্গে বরখান শহরের রারহশাম এলাকাও দখল করে নিয়েছে তারা। সুরাব, জেহরি সহ অন্য এলাকাও ক্রমশ বিদ্রোহীদের দখলে চলে যাচ্ছে। যা নিয়ে কার্যত আতঙ্কে স্থানীয় প্রশাসন।
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বালুচিস্তানের উপর পাক সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ কমেছে। সরকারি আধিকারিকরা নিরাপত্তা ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে চাইছেন না। লেখক মীর ইয়ার বালোচ ইতিমধ্যেই বালুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করে আন্তার্জাতিক মঞ্চের স্বীকৃতি চেয়েছেন। তবে পাল্টা এলাকা দখলের চেষ্টা করছে পাকিস্তানি সেনাও। একাধিক এলাকাকে ‘সংবেদনশীল’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ওই সব এলাকায় সেনা অভিযান চালানো হচ্ছে। যদিও জায়গা ছাড়তে নারাজ বিদ্রোহীরা। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রতিদিনই একের পর এক গাড়িতে পাক সেনার সদস্যদের নিয়ে আসা হচ্ছে।
এদিকে, বিদ্রোহ ঠেকাতে একাধিক বালোচ মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে পাক সরকার। বহু মানুষের কোনও খোঁজই নেই। মানবাধিকার সংগঠন ‘ভয়েস ফর বালোচ মিসিং পার্সন’ জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাসেও অন্তত ২৩ জনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাদের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। তবে বিদ্রোহীরা একের পর এক শহর দখলের মুখে গত ৬ মে বালুচিস্তানের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ১৫০ জন রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মীকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে সেই ঘোষণার পরেও বালোচ মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী মাহরাং বালোচ সহ ছয়জন এখনও মুক্তি পাননি। অভিযোগ উঠেছে বালুচিস্তান হাইকোর্ট তাঁদের ইচ্ছা করে জামিন দিচ্ছে না। মাহরংয়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, হাইকোর্টের বিচারপতিরা সরকারকে খুশি করার চেষ্টা করছেন। বিচার দেওয়া তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। তাই প্রতিদিন ‘নাটক’ করছেন বিচারপতিরা।