


নয়াদিল্লি: ঔদ্ধত্যের সীমা ছাড়িয়ে জোর থাপ্পড় খেল বাংলাদেশ। টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে তাদের কার্যত ‘আউট’ করল আইসিসি। পরিবর্ত হিসেবে খেলবে স্কটল্যান্ড। শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) সরকারিভাবে ই-মেলের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। তবে শনিবারই তা প্রকাশ্যে এসেছে। কঠোরতম সিদ্ধান্ত নিয়ে আইসিসি বুঝিয়ে দিল যে, কোনও অন্যায় আবদার বা চাপ বরদাস্ত করা হবে না। হুটহাট ম্যাচ বদলের দাবিকে যে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, সেই উদাহরণও রাখা হল। এই অবাধ্যতার শাস্তি নানা ভাবে ভুগতে হবে বিসিবি’কে। বিশ্বকাপে না খেলার জন্য নির্বাসনের সঙ্গে তাদের মোটা জরিমানাও করতে চলেছে আইসিসি। এছাড়া বন্ধ করা হতে পারে যাবতীয় আর্থিক সুযোগ সুবিধা। আইসিসি’র সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাজার গরম করতে চাইছে বাংলাদেশের ‘বন্ধু’ পাকিস্তান। তারাও প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে আসর থেকে সরে যাওয়ার। সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এদিন জানিয়েছেন, টি-২০ বিশ্বকাপে পাক দলের খেলাও অনিশ্চিত। তাঁর বক্তব্য, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ঘোর অন্যায় হয়েছে। আইসিসি’র এই দ্বিমুখী নীতি মেনে নেওয়া যায় না। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলবে কিনা ভেবে দেখতে হবে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
মুস্তাফিজুরকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর ভারতে টাইগার ব্রিগেডের নিরাপত্তাহীনতার ছেঁদো অজুহাত খাড়া করে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে তাদের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় দেওয়ার দাবি জানায় তারা। অভিযোগের সারবত্তা খতিয়ে দেখে ভারতে কোনওরকম নিরাপত্তার অভাব খুঁজে পায়নি আইসিসি। তারা বারবার বিসিবি’কে তা বোঝানোর চেষ্টা করে। এমনকি, সমস্যা মেটাতে বাংলাদেশের পাঠানো হয় প্রতিনিধি দল। কিন্তু নিজেদের গোঁ থেকে সরেনি পদ্মাপারের দেশ। চরম ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্যই যে খেলতে আসায় এতো অনীহা, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে কার্যকলাপে। এই পরিস্থিতিতে ২১ জানুয়ারি আইসিসি বোর্ডের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের দাবিকে সমর্থন জানায় একমাত্র পাকিস্তান। বাকি ১৪টি দেশের রায় তাদের বিপক্ষে যায়। ভোটে গো-হারান হেরে যাওয়ার পর বাংলাদেশকে ভুল শোধরানোর জন্য একদিনের চরমসীমা দেয় আইসিসি। কিন্তু তারপরও অবস্থান পাল্টায়নি তারা।
বিসিবি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামকে পাঠানো ই-মেলে আইসিসি তাই সোজাসুজি লিখেছে, ‘২৪ ঘণ্টা কাটার পরও বাংলাদেশের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয়নি। তাই সিদ্ধান্ত নিতেই হচ্ছে। তার উপর ঢাকায় বিসিবি এই সংক্রান্ত একটি প্রেস কনফারেন্সও করেছে, যা প্রোটোকল বহির্ভূত। তাই সরাসরি জানানো হচ্ছে যে, টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় খেলবে স্কটল্যান্ড।’ আইসিসি’র ঘোষণার পর বাংলাদেশ ক্রিকেটেও ডামাডোল শুরু। বোর্ডের অন্যতম ডিরেক্টরের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ইশতিয়াক সাদেক। পাশাপাশি চাপে পড়ে সাকিব আল হাসানকেও জাতীয় দলে ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছে বিসিবি।