


ঢাকা, ১৭ মার্চ: দেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকেও অস্বীকার করতে চেয়েছিল মহম্মদ ইউনুসরা। যদিও ‘নতুন বাংলাদেশের’ জনগণই রুখে দিল সেই অপচেষ্টা। এবছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ প্রথমে বাতিল করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। যুক্তি ছিল, মরশুমের প্রথম তাপপ্রবাহ চলছে। যদিও প্রবল সমালোচনার জেরে পিছু হটতে বাধ্য হয় প্রশাসন। তারা জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা ছাড়া বাকি ৬৩টি জেলায় কুচকাওয়াজ আয়োজন করা হবে।
এদিকে, সরকার হাত গুটিয়ে থাকলেও সোমবার মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে পথে নামল আম জনতা। সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এদিন ভোর ছ’টা নাগাদ রাজধানী ঢাকায় মিছিল বের করে আওয়ামি লিগ। তাতে শতাধিক মানুষ যোগ দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এ বছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে কুচকাওয়াজ হবে না বলে রবিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। সাংবাদিকের তিনি বলেন, ‘গতবার কুচকাওয়াজ হয়নি। এবারও হচ্ছে না। আমরা এখন একটা যুদ্ধাবস্থায় আছি, আনন্দ করার মেজাজে নেই।’
এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক হইচই হওয়ার পরে ঢোঁক গেলে ইউনুস সরকার। রাতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক বিবৃতিতে জানান, ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ চলছে। যে কারণে গত কয়েক বছরের মতো এবছরও সেখানে কুচকাওয়াজ আয়োজন করা হবে না। তবে দেশের বাকি ৬৩ জেলায় কুচকাওয়াজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
ইউনুস সরকারের এই ভোলবদলকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল। তাঁদের মতে, দেশে অপরাধ বৃদ্ধি, মূলবৃদ্ধি এবং মৌলবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলির তৎপরতা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে সাধারণ মানুষ এমনিতেই ক্ষুদ্ধ। তার মধ্যে স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও প্রবল হয়েছিল। এনিয়ে সমাজমাধ্যমেও প্রবল আলোচনা হয়। যা টের পেয়ে শেষ পর্যন্ত তুঘলকি সিদ্ধান্ত বাতিলে বাধ্য হল বর্তমান শাসক গোষ্ঠী।