


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাংলাদেশি মডেল শান্তা পালের আধার কার্ড ইস্যু হয়েছিল ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। আধার কার্ডে তাঁর বাবা হিসেবে যাঁর নাম উল্লেখ রয়েছে তিনিও ভুয়ো। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নথি জাল করে সে শক্তিগড় থানার বড়শুলের ঠিকানায় ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করেছিল। সেই আধার দেখিয়েই সে অন্যান্য নথি তৈরি করে। বড়শুল এলাকার বাসিন্দা অরুণ গোলদার বলেন, বিষয়টি জানার পর থেকেই এলাকার সব পাড়াতেই খোঁজ নিয়েছি। ওই মডেল কোনও দিন এই এলাকায় আসেননি। তাঁর বাবা হিসেবে যাঁর নাম উল্লেখ রয়েছে, তাঁরও অস্তিত্ব নেই। তিনি কীভাবে নথি নকল করে আধার কার্ড তৈরি করেছিলেন, সেটা তদন্ত করা দরকার। সাধারণ কোনও মানুষ আধার কার্ড তৈরি করতে গেলে তাঁকে বারবার নথি দেখাতে হয়। বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরানো হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কীভাবে ওই অভিনেত্রী ভুয়ো নথি দিয়ে আধার কার্ড তৈরি করে ফেলল, সেটাও তদন্ত করা দরকার।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেলায় নকল জন্ম সার্টিফিকেট তৈরির বড় চক্রের হদিশ পুলিস আগেই পেয়েছে। ভাতার, শক্তিগড়, আউশগ্রাম থেকে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়। পাসপোর্ট তৈরির জন্য জন্ম সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। এক আধিকারিক বলেন, কোনও পরিচয়পত্র দেখে সন্দেহ হলেই তা যাচাই করা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালের নথি তৈরি করে তারা ভুয়ো জন্ম সার্টিফিকেট তৈরি করছে। ভুয়ো আধার কার্ড তৈরির বিষয়টিও নতুন কিছু নয়। প্রতারকরা এলাকার কাউকে ‘বাবা’ সাজিয়ে নথি তৈরি করে। সেটা দেখিয়েই আধার, ভোটারসহ বিভিন্ন নথি তৈরি করে। মুর্শিদাবাদ, নদীয়ায় পুলিস এরকম চক্রের হদিশ আগেই পেয়েছে। তবে বাংলাদেশি ওই মডেলের সঙ্গে বর্ধমানের ‘কানেকশন’ কীভাবে গড়ে উঠল, তা তদন্তকারীরা বুঝে উঠতে পারছেন না। তদন্তকারীদের মতে, এলাকার কারও সঙ্গে ওই মডেলের যোগাযোগ থাকতে পারে। তার মাধ্যমেই সে ভুয়ো ঠিকানায় আধার কার্ড তৈরি করেছিল। তবে সেই ব্যক্তি কে, তা এখনও তদন্তকারীরা জানতে পারেনি। তবে শান্তাকে ঘিরে বড়শুল এখন সরগরম হয়ে রয়েছে। এলাকার প্রতিটি ঠেকেই মোবাইলে তাঁর ছবি নিয়েই চর্চা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, তাঁকে রিলস করতে দেখা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে তিনি সক্রিয় ছিলেন। সেসব অ্যাকাউন্টগুলিও ক্রমাগত এলাকার বাসিন্দারা সার্চ করে চলছেন। কিন্তু তাঁকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ বড়শুলের বাসিন্দাদের হয়নি। অথচ খাতা কলমে তিনি নাকি এই এলাকার বাসিন্দা।