


সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: রেল কর্তৃপক্ষের ফতোয়ায় ট্রেনে হকারি বন্ধ হতেই মাথায় হাত বারুইপুরের পেয়ারা চাষিদের। পাইকাররা পেয়ারা নিয়ে ডালা সাজিয়ে বসলেও হকারদের দেখা নেই। কিনেই বা কী করবেন তাঁরা? ট্রেনে, স্টেশনে বা প্ল্যাটফর্মে তো আর বিক্রির সুযোগ নেই। এদিকে, বাজার না থাকায় সঠিক দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। ফলে কম দামেই বিক্রি করে দিতে হচ্ছে তাঁদের। তাও প্রতিদিন চাষিরা যা পেয়ারা নিয়ে আসছেন, তার সবটা বিক্রি হচ্ছে না। পেয়ারা চাষিদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচিত তাঁদের সমস্যার দিকটিও দেখা।
বারুইপুরের পেয়ারা স্বাদে গুণে বিখ্যাত। কথায় বলে, ‘বারুইপুরের পেয়ারা খেলে হবে চেহারা’। এই পেয়ারাকে জিআই ট্যাগ দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছিল গত বিধানসভায়। কিন্তু ওই উদ্যোগ বেশিদূর এগয়নি। বারুইপুরের শংকরপুর, ধপধপি, শিখরবালি, রামনগরের দু’টি করে পঞ্চায়েত, কল্যাণপুর, বৃন্দাখালি প্রভৃতি এলাকায় পেয়ারা চাষ হয়। কলকাতার বাজারে কমবেশি সারা বছর পেয়ারা মিললেও এই ফলের সিজন বলতে আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র। এই তিন মাসেই মূলত বেচাকেনা হয়। পেয়ারা তিন প্রকার। এলাহাবাদ, খাজা ও দুধে খাজা। এলাহাবাদ ও খাজা পেয়ারাই বেশি আসে বাজারে। এলাহাবাদ পেয়ারায় দানা কম, নরম ও সুস্বাদু হয়। তুলনায় খাজা পেয়ারা থাকে শক্ত, দানাও বেশি। ভোর ৩টে বাজতে না বাজতেই বারুইপুরের পদ্মপুকুর সোনার তরী সংলগ্ন এলাকা ও কাছারি বাজারের কাছে রাস্তার উপরেই বসে যায় পেয়ারার পাইকারি বাজার। চাষিরা ভ্যান, বাইক, ছোটো ম্যাটাডরে করে পেয়ারা নিয়ে আসেন সেখানে।
চাষীদের কথায়, এই মরশুমে ফলন বেশি হলেও ব্যবসায় মন্দা চলছে। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার সব ট্রেনে পেয়ারা বিক্রি বন্ধ। এমনকি, পেয়ারা নিয়ে হকারদের স্টেশনে বসতেও দেওয়া হচ্ছে না। তাই তাঁরা আর পেয়ারা কিনতে আসছেন না। পেয়ারা চাষি দিলীপ নস্কর বলেন, ট্রেনে হকারি বন্ধ হওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে পেয়ারার বাজারে। এক কুড়ি পেয়ারা এখন ৩০-৪০ টাকায় বেচে দিতে হচ্ছে। আগে এক কুড়ি বিক্রি হত ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। হকাররা বিক্রির জন্য কেউ দশ কুড়ি, কেউ আট কুড়ি নিয়ে যেতেন। আরেক চাষি আজিজুল শেখ বলেন, পেয়ারার বাজার নেই। একদিকে, উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, বিক্রিবাটা নেই। দু’বছরে সারের দাম ৪০০ টাকা বেড়েছে। লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। পেয়ারা চাষি সুজয় হালদার বলেন, বাঁধাধরা কয়েকজন ক্রেতা আছেন, একমাত্র তাঁরাই আসছেন কিনতে। এটাই ভরসা। তবে এখন পেয়ারা প্যাকেজিং হয়ে কটক, বিহার, দিল্লিতে পাঠানো হচ্ছে। এতে কিছুটা হলেও লাভ হচ্ছে।