


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কুমোরটুলিতে তৈরি দুর্গা বিদেশে বা ভিন রাজ্যে নিয়মিত যায়। এবার ভিন প্রদেশে যাচ্ছে বাসন্তী দুর্গা। পোড়ামাটির তৈরি দু’ফুটের মূর্তিটি যাচ্ছে বেঙ্গালুরু। তিন এপ্রিল বাসন্তী পুজো শুরু। সেদিন ষষ্ঠী। সাত তারিখ দশমী।
কুমোরটুলির বনমালি সরকার স্ট্রিটে শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পালের স্টুডিও। সেখানেই তৈরি হয়েছে বাসন্তী দুর্গাটি। বেঙ্গালুরুর একটি আবাসনে থাকে জনৈক পাল পরিবার। তাঁদের বাড়িতে হচ্ছে বাসন্তী পুজো। সেখানে যাচ্ছে কুমোরটুলিতে তৈরি মূর্তিটি। সোমবার ইন্দ্রজিৎবাবুর স্টুডিওতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, অপূর্ব কারুকাজ সমৃদ্ধ বাসন্তী দুর্গার মূর্তি কাঠের বাক্সে ভরে থার্মোকলে মুড়ে প্যাকিংয়ের কাজ চলছে। সামান্য নড়াচড়া হলেই কারুকার্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা। তাই সর্তকভাবে কাজ চলছে। একটি ক্যুরিয়ার সংস্থা মূর্তিটি নিয়ে যাবে বেঙ্গালুরু। ইন্দ্রজিৎবাবু বলেন, ‘বড় আকারের মূর্তি তৈরি তুলনামূলক সহজ কাজ। কিন্তু ছোট প্রতিমার মধ্যে অসংখ্য কারুকার্য থাকে। ফলে তৈরির সময় বেশি লাগে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এই দুর্গা প্রতিমাটি পোড়ামাটির। কিছুদিন আগে বরাত এসেছিল।’ তিনি জানান, তাঁর স্টুডিও থেকে এই প্রথম অন্য কোনও প্রদেশে বাসন্তী প্রতিমা পাড়ি দিচ্ছে আকাশপথে। ইন্দ্রজিৎবাবু বলেন, ‘কুমোরটুলির নাম যত ছড়িয়ে পড়বে ততই গর্ব অনুভব করবেন শিল্পীরা।
সোমবার কুমোরটুলির রবীন্দ্র সরণি, কুমোরটুলি স্ট্রিট সহ পটুয়াপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গিয়েছে, বেশ কয়েকজন শিল্পী বাসন্তী প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। অধিকাংশ প্রতিমা হয় গৃহস্থ বাড়িতে পুজো পাবে কিংবা কোনও মঠ‑মন্দিরে। এদিন কাঁকুরগাছির একটি পরিবারের দুই কর্তা কাজ দেখতে এসেছিলেন কুমোরটুলিতে। খুঁটিয়ে দেখছিলেন প্রতিমার কাজ। তাঁদের নাম সজল ও অরুণ সমাজপতি। দু’ভাই জানান, তাঁদের বাড়ির বাসন্তী পুজো এবার ২২ বছরে পা দিয়েছে। যাবতীয় শাস্ত্রীয় নিয়মরীতি মেনে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত পুজো হয়। প্রতি বছর কুমোরটুলি থেকেই প্রতিমা কেনেন তাঁরা। কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্তা বাবু পাল বলেন, ‘আগে শিল্পীরা হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র বরাত পেতেন বাসন্তী পুজোর সময়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। গত কয়েক বছর ধরে প্রায় ৩০টির মতো মূর্তি তৈরির অর্ডার পাচ্ছেন শিল্পীরা।’