


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: নির্মীয়মাণ বাড়ির ছাদে কাজ করতে গিয়ে হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে মৃত্যু হল রাজমিস্ত্রির। মৃতের নাম সাইফুল ইসলাম (৩৪)। সোমবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শাসনের গোলাবাড়ি বাজার এলাকা। টাকি রোডে মৃতদেহ রেখে চলে অবরোধ। পুলিশ এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে চলে ধস্তাধস্তি, হয় গাড়ি ভাঙচুরও। এমনকি, আটক বিক্ষোভকারীদের ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। পরে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয় পুলিশকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে গোলাবাড়ির বাজার মোড় এলাকায় ফারুক ইসলামের নির্মীয়মাণ বাড়িতে কাজ করতে যান সাইফুল। অভিযোগ, বাড়ির ছাদে উঠে কাজ করার সময় পাশের হাই-ভোল্টেজ তারের সংস্পর্শে চলে আসেন তিনি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতের দাদা মহম্মদ ফিরদৌস বলেন, বাড়ির ছাদে নির্মাণকাজের বৈধ অনুমতি ছিল না। তা সত্ত্বেও জোর করে ভাইকে তোলা হয়। ভাইয়ের মৃত্যুতে তিনটি ছোট সন্তানকে নিয়ে পথে বসল পরিবার। দোষীর কঠোর শাস্তি চাই। এই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। নির্মীয়মাণ বাড়িটিকে বেআইনি দাবি করে স্থানীয়রা মৃতদেহ টাকি রোডে রেখে বিক্ষোভে শামিল হন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শাসন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজনা আরও বাড়ে। শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জনতার একাংশ পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং হামলার চেষ্টা চালায়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে লাঠিচার্জ করে কয়েকজনকে আটক করা হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নিলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এনিয়ে বারাসত জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (জোনাল) দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। সাময়িক ক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।