


ঢাকা: প্রায় দেড় বছর হতে চলল বাংলাদেশের মসনদে মহম্মদ ইউনুসের তদারকি সরকার। এতদিনেও শেখ হাসিনা ভীতি কাটল না ঢাকার। এখনও মুজিব-কন্যার যাবতীয় কৃতকর্মের জন্য তারা ভারতকেই দায়ী করে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে তত্কালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের সদর দপ্তরেৃ রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের সাক্ষী ছিল বাংলাদেশ। সেই অভ্যুত্থানের কারণ হিসেবে বেতন বৈষম্য এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নীচুতলার ক্ষোভকে দায়ী করেছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার গড়া তদন্ত কমিটি। এবার সেই রিপোর্ট বদলে ঘটনার জন্য হাসিনাকেই দায়ী করল ইউনুস প্রশাসন। তদারকি সরকারের গড়া তদন্ত কমিশন রবিবার জানিয়েছে, সেই সময় সদ্য ক্ষমতায় ফিরেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজের জমানাকে দীর্ঘস্থায়ী করতেই তিনি এই অভ্যুত্থানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই কর্মকাণ্ডে ভারতও জড়িত ছিল। এ এল এম ফজলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের মতে, বাংলাদেশকে অশান্ত করতে চেয়েছিল দিল্লি। কমিশনের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন মহম্মদ ইউনুস। তাঁর কথায়, ‘কমিশনের রিপোর্টের মধ্যমে অবশেষে সত্যিটা সামনে এল।’ যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
১৬ বছর আগে ওই অভ্যুত্থানের সাক্ষী ছিল ঢাকার পিলখানায় অবস্থিত বিডিআর সদর দপ্তর। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নীচুতলার ক্ষোভের আগুনে মৃত্যু হয় বেশ কয়েকজন বিডিআর আধিকারিক সহ ৭৪ জনের। দু’দিন ধরে চলেছিল সেই নরমেধ যজ্ঞ। ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে ঢাকার মসনদে আসীন হয়েছিল আওয়ামি লিগ সরকার। ফজলুর রহমান কমিশন এ প্রসঙ্গে গোটা ষড়যন্ত্রে প্রাক্তন এমপি ফজলে নুর তাপসের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে। কমিশনের মতে, তিনিই অভ্যুত্থানের প্লট তৈরি করেছিলেন। তারপর হাসিনার ‘সবুজ সংকেত’ পেয়েই সব কিছু কার্যকর করেন। কিন্তু ভারত কীভাবে জড়িয়ে পড়ল সেই ষড়যন্ত্রে? কমিশনের মতে, হাসিনা এবং দিল্লির পারস্পরিক স্বার্থ এতে জড়িয়ে ছিল। হাসিনা চেয়েছিলেন দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা। বিডিআরকেই এই কাজে হাতিয়ার করতে চেয়েছিলেন তিনি। আর ভারত চেয়েছিল অশান্ত বাংলাদেশ। কমিশন দাবি করেছে, সেবার ৯২১ জন ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এঁদের মধ্যে ৬৭ জনের পরিচয় জানা যায়নি। কমিশনের রিপোর্ট প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, এই একটি ইশ্যু নিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে না। বরং হাসিনাকে দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের হাতে প্রত্যর্পণের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
সোমবার নতুন করে বাংলাদেশের আদালতে বিপাকে পড়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। সেই মামলাতেই দোষী সাব্যস্ত হাসিনার ভাইঝি তথা ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকিরও দু’বছরের কারাবাসের সাজা হয়েছে। ঢাকার বিশেষ আদালতের বিচারক রবিউল আলম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় হাসিনার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অন্যায় সুবিধা নিয়েছেন টিউলিপ। এই মামলায় মূল ষড়যন্ত্রকারী টিউলিপের মা শেখ রেহানাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ৮১৩ ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে তিনজনকে।