


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক ও কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্রলয়’ ঘটাতে গিয়ে বিতর্কে প্রলয় পাল! তিনি ‘দলছুট’ দাদার অনুগামী বলে পরিচিত নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা। এর আগেও তিনি নিজের নামের আভিধানিক অর্থের সার্থকতা তুলে ধরে শিরোনামে এসেছেন। এবারও শিরোনামে আসতে চেয়ে বাংলার ‘নারীশক্তির সতীত্ব’ নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন এই বিজেপি নেতা! যা নিয়ে তোলপাড় গোটা পূর্ব মেদিনীপুর। বুধবার দিনভর প্রলয়কে গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল থাকল নন্দীগ্রাম। রাত পর্যন্ত থানার সামনে বিক্ষোভ চলল মহিলাদের। এদিকে, নিন্দার ঝড় বইছে নেট দুনিয়াতেও। প্রলয়ের মন্তব্যকে ‘নারী বিদ্বেষী’ ও ‘মধ্যযুগীয় বর্বর মানসিকতা’ বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসও। সবমিলিয়ে, প্রলয় নিজেও যেমন মহাফাঁপরে পড়েছেন, তেমনিই ভোটের আগে বিড়ম্বনায় ফেলেছেন দলকেও। দল অবশ্য প্রলয়ের মন্তব্যের ভাগিদার হতে চায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত, প্রলয়ের একটি ভিডিও ফুটেজ (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। সেখানে তিনি টার্গেট করেন তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের পাঁচালি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ও দীঘায় জগন্নাথ মন্দির দর্শনে যাওয়া তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকদের। তাঁকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়—‘যা যা যা...। তোরা গুজরাত চলে যা, চেন্নাই চলে যা। সারাদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ইনকাম করে বাড়িতে পাঠা। আর এদিকে দেখ বাড়ির বউটা দীঘায় চলে যাচ্ছে উন্নয়নের পাঁচালি গান গাইতে...দীক্ষা নিতে...কোন হোটেলে দীক্ষা নিচ্ছে...কতক্ষণ দীক্ষা নিচ্ছে জানি না। বাড়িতে ফিরে এসে দেখিস বউকে যাতে গাইনো (স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ) দেখাতে না হয়...। বড় ভাই হিসেবে সাবধান করলাম। বাকিটা তোদের ব্যাপার।’
প্রলয়ের এহেন কুমন্তব্য সামনে আসতেই বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। দলের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলা হয়েছে, ‘বিজেপির কাছে দুনিয়ার মহিলাদের চরিত্র সর্বদা প্রশ্নের মুখে থাকে। তাঁদের শরীরকে সার্বজনীন অবমাননা, বিচার ও পরীক্ষারক বস্তু বলে মনে করা হয়।’ তৃণমূলের অভিযোগ, ‘বিজেপি একদিকে বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও, নারী সুরক্ষা নিয়ে বড় বড় বুলি আওড়ায়। আর অন্যদিকে, মহিলাদের পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে। এটি বিজেপির নেতা-কর্মীদের শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত। ওরা পশ্চাদপদ, নারী বিদ্বেষী। ওদের এই ধরনের চিন্তাভাবনা মধ্যযুগীয় বর্বর মানসিকতারই শামিল।’ প্রলয়ের মন্তব্যে উত্তাল নন্দীগ্রামও। দিনভর বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন বহু সাধারণ মহিলাও। সন্ধ্যায় প্রলয়কে গ্রেপ্তারে দাবিতে নন্দীগ্রাম থানায় তুমুল বিক্ষোভও হয়। তৃণমূল নেতা বাপ্পাদিত্য গর্গ জানিয়েছেন, ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় এফআইআর করে আইনি পদক্ষেপের জন্য আন্দোলন শক্তপোক্ত করা হবে। দোল পূর্ণিমার দিন নন্দীগ্রাম-১ ব্লক এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব ১০টি বাসে প্রায় ৪০০ জন মহিলাকে দীঘা জগন্নাথ মন্দির দর্শনে নিয়ে যান। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের নন্দীগ্রাম-১ ব্লক কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন হলেও তাঁদের অনেকেই আর্থিক সমস্যা সহ নানা কারণে যেতে পারেননি। দলের পক্ষ থেকে ওই উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। তৃণমূলের এই কর্মসূচিকে সামনে রেখেই মহিলাদের অত্যন্ত অশালীন ও কদর্যভাবে আক্রমণ করেন প্রলয়। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, আমরা সবার আগে মানুষ। তাই, কোনও মন্তব্য করার আগে শালীনতা বজায় রাখতে হয়। প্রলয় পালের ওই মন্তব্য একান্তই তাঁর নিজস্ব। আমাদের দল এমন মন্তব্য বরদাস্ত করে না।’