


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার দুর্গাপুজোয় মধ্যপ্রদেশের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা’র ‘নিরামিষ বিধান’কে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। বাঙালি ‘পাখন্ডি’ এবং তাদের খাওয়া-দাওয়া মানে ‘গন্দে গন্দে ভোজন’—বাগেশ্বর বাবার এই বিধানে দলমত নির্বিশেষে বাংলার সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে সরব হয়েছে। বিরোধীরা তো বটেই, শাসকদল বিজেপির নেতা-মন্ত্রী এমনকি শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত, রাজগণক এবং মহিলা পুরোহিতও প্রতিবাদে গর্জে উঠছেন। এই আবহেই মঙ্গলবার কংগ্রেসের তরফে শহরের তিন প্রান্তের তিন থানা এবং হাওড়ার সাইবার ক্রাইম থানায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভবানীপুর থানার সামনে বিক্ষোভও দেখানো হয়।
এদিন দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ প্রসাদের নেতৃত্বে একদল কংগ্রেস কর্মী নানা প্ল্যাকার্ড-পোস্টার সহযোগে ভবানীপুর থানার সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। এরপর বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। একইভাবে মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেস সভাপতি মানস সরকার এবং উত্তর কলকাতা জেলা কংগ্রেস সভাপতি তারক পালের নেতৃত্বে যথাক্রমে মুচিপাড়া ও নিমতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শাক্তমতে বিশ্বাসী বাঙালি সনাতনীদের এই বিক্ষোভের আঁচ এখন রাজনীতির আঙিনাতেও। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘আমি নিজে মাছ ছাড়া কিছু খাই না। এখানে দুর্গাপুজোয় পাঁঠা বলি হয়। সেই মাংস প্রসাদ হিসাবে খাওয়া হয়। যে বা যাঁরা বাগেশ্বর বাবার কাছে যান, উনি কি বলতে পারবেন, তাঁরা মাছ খান না, মাংস খান না!’ অপর এক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, ‘বাইরের লোক এসে বুঝবে না, এখানে আমাদের বাঙালিদের বিষয়। সারা বছর পয়সা জমিয়ে পুজোর চারদিন রেস্টুরেন্টে জমিয়ে মাংস খাই, ইলিশ খাই। আমাদের কালচারটা আলাদা। কী পরব, কী খাব, কখন বাড়িতে ঢুকব, এটা কেউ বলে দিতে পারে না।’ প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বিজেপি নেতা তথাগত রায় এবং মহিলা পুরোহিত নন্দিনী ভৌমিকও। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞ যুগলকিশোর শাস্ত্রী এবং গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকার রাজগণক অচিন্ত্য ভট্টাচার্যের কথায়, ‘বাগেশ্বর না কী যেন নাম! উনি ভগবান, নাকি সৃষ্টিকর্তা? আদি অনন্তকাল ধরে যে রীতি চলছে, তাতে বাধা দেওয়ার উনি কে!’