


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টি-২০ বিশ্বকাপে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এভারেস্ট সমান রানের পাহাড়। ইনিংসের এক বল বাকি থাকতেই ২৫০ রানে পৌঁছে গিয়েছিল ভারত। শেষ বলে কী হবে? হার্দিক পান্ডিয়া তখন মারমুখী মেজাজে। ব্যাট করছিলেন ৪৪ রানে। শেষ বলে ছয় মারলেই হাফ সেঞ্চুরি। কিন্তু, পঞ্চাশের গণ্ডি পার করতে গিয়ে আউট হতেই পারতেন হার্দিক। এই দোটানার মধ্যেই বাড়ছিল জুয়ার দর। বেটিং চক্রে যুক্তদের ল্যাপটপের স্ক্রিনে তখন উইকেটের রেট— ১০ কা ৫০। অর্থাৎ, প্রতি লগ্নিতে পাঁচগুণ। দেদারে চলেছে বেটিং। সবটাই অনলাইনে।
ধর্মতলার একটি রেস্তরাঁয় বসে বেটিংয়ে ডুবেছিলেন পবন আগরওয়াল (৩৫)। লেকটাউন থানা এলাকার ক্যানাল স্ট্রিটের একটি আবাসনের বাসিন্দা তিনি। পবনের বিরুদ্ধে বেআইনি জুয়া খেলার অভিযোগ জমা পড়ে হেয়ার স্ট্রিট থানায়। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে শনিবার লেকটাউন থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। বাজেয়াপ্ত হয়েছে ল্যাপটপ ও ছ’টি দামি মোবাইল ফোন। তাঁর মোবাইলের গ্যালারি থেকে ক্রিকেট বেটিংয়ের একাধিক প্রমাণের স্ক্রিনশট পেয়েছে পুলিশ। পবনকে রবিবার ব্যাঙ্কশালের সিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক ৬ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, বেটিং পরিচালনা করছিলেন তিনি। অনেকেই শেষ বলে হার্দিকের উইকেটকে ঘিরে ফাটকা খেলেছিলেন। লগ্নিকারীদের সমস্ত টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। পাশাপাশি হার্দিক কি শেষ বলে ছয় মেরে হাফ সেঞ্চুরি করতে পারবেন? সেই ‘ভাও’ ছিল চরমে। ১০ টাকা লগ্নি করলে মিলছিল ২৫ টাকা। আদতে জিম্বাবোয়ের ম্যাচে শেষ বলে হার্দিক ছয় মেরে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। অভিযুক্তের দাবি, এর জেরে বিরাট লোকসান হয় পবনের। কোন কোন অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর কাছে টাকা এসেছিল, কাকে কাকে তিনি টাকা দিয়েছেন, সবই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রবিবার শহরে ছিল বিশ্বকাপের ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ। এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচে টিকিটের কালোবাজারি ও সাট্টা-জুয়া দমন করতে তৎপর ছিল পুলিশ। কসবা, পার্ক স্ট্রিট, এলগিন রোড, ক্যামাক স্ট্রিট, শেক্সপিয়ার সরণি, ভবানীরপুর সহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে রেস্তরাঁ, পানশালা, ক্যাফে, নাইট ক্লাবে গোপনে বেটিং চক্র চলতে পারে। এ কথা মাথায় রেখেই এদিন বিকালের পর থেকে খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দফায় দফায় জায়গায় অভিযান চালিয়েছেন গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে হোটেল ও অতিথিশালায় অভিযান চালানো হয়।