


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: কথায় বলে, ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না! প্রবল চাপের মুখে রেল শহর খড়্গপুরে রেলের পাঁচিল ভাঙলেন বিজেপি কর্মীরা। ঘটনা ঘিরে শোরগোল খড়্গপুর শহরে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের খড়্গপুর ডিভিশনের এডিআরএম মনীষা গোয়েলের বদলি হয়েছে। তাঁকে পাঠানো হয়েছে দক্ষিণ-মধ্য রেলে। তারপরই শুক্রবার সাতসকালে শহরের রেল এলাকা হিসেবে পরিচিত সাউথ সাইডের অফিসার্স ক্লাব সংলগ্ন পাঁচিল ভেঙে দেন বিজেপি কর্মীরা। গত মে মাসে ওই রেল এলাকায় রেলকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত রাস্তা বন্ধ করতেই রেলের তরফে ওই পাঁচিল দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গত বছর ৩১ মে তৃণমূল কর্মী ও কাউন্সিলাররা সাধারণ বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে ওই পাঁচিল ভাঙতে গেলে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। আরপিএফের তরফে লাঠিচার্জ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। সেই সময়ও চাপে পড়ে বিজেপি কর্মীরা রেল এলাকার বাসিন্দাদের সমর্থন করেছিলেন। যদিও ওই ঘটনায় বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকারের।শুক্রবারের পাঁচিল ভাঙার ঘটনার পরই গর্জে ওঠেন প্রদীপ। তিনি বলেন, ‘সেই সময় আমাদের কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করেছিল আরপিএফ। মামলাও করেছে। তা হলে আজ বিজেপি কর্মীদের এই বেআইনি কাজের জন্য এফআইআর হবে না কেন? আরপিএফ এখন কি পদক্ষেপ নেয় সেটাই আমরা দেখব।’ বিষয়টিকে বিজেপির ‘নাটক’ বলছেন তৃণমূল প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘রাস্তা বন্ধ থাকায় এতদিন সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছিল। তখন দিলীপ ঘোষ কোথায় ছিলেন? এখন ভোটের মুখে বিজেপি কর্মীদের দিয়ে নাটক করাচ্ছেন।’
গত এক-দেড় বছর ধরেই নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে খড়্গপুর শহরের রেল এলাকায় একের পর এক রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, ব্যবসায়ী ও বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠছিল রেলের বিরুদ্ধে। নেতৃত্বে এডিআরএম মনীষা গোয়েল ছিলেন বলে তৃণমূলের দাবি। সেই এডিআরএমের বদলির পরই এবার তৃণমূলের সুরেই গলা মেলাতে দেখা গেল বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষকেও। শুক্রবার প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, ‘এখানে একজন মহিলা এসেছিলেন। তিনি এডিআরএম। তৃণমূলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলছিলেন। কথায় কথায় রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছিলেন। ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে বাসিন্দাদের হুমকি দিচ্ছিলেন। আরপিএফ থেকে রেল আধিকারিক, কাউকেই রেয়াত করতেন না। তাঁকে আমরা সরিয়ে দিয়েছি। রাজ্য বা কেন্দ্রের যেই হোন, খড়্গপুরের মানুষকে অসুবিধায় ফেললে আমরাও তাঁকে শান্তিতে থাকতে দেবনা।’ এদিন রেলের উচ্ছেদের বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘রেলের জায়গায় রেল উচ্ছেদ করতেই পারে। তবে, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা বসবাস করছেন, ব্যবসা করছেন তাঁদের উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এটাই আমাদের দাবি।’
এদিকে, মনীষা গোয়েলের বদলির নির্দেশের পরই খড়্গপুর শহরের রেল কলোনির বাসিন্দারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। রোহন দাস, স্মৃতি পাত্র, প্রিয়াঙ্কা সী প্রমুখ বলেন, ‘এই এডিআরএম একের পর এক স্বেচাচারী সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন। রেল বস্তিতে গিয়ে উচ্ছেদের হুঁশিয়ারি দিতেন। একটার পর একটা রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছিলেন। হকার, ব্যবসায়ীদের হুমকি দিতেন। আমরা এসবের প্রতিবাদ করলেই আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করতেন।’ আরপিএফের লাঠিচার্জের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্মৃতিদেবী বলেন, ‘আমরা রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য পাঁচিল ভাঙতে গেলে লাঠিচার্জ করে আরপিএফ। এফআইআর দায়ের করে। এখন তাহলে বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও এফআইআর হোক।’