


সংবাদদাতা রানাঘাট: সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে চাঞ্চল্য শান্তিপুর ঘোড়ালিয়ার নতুন পাড়ায়। উঠেছে পুলিশ পরিচয় দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয়েছে শান্তিপুর বিধানসভার বিজেপি কনভেনার দীপক বিশ্বাসের ভাইপো মিন্টু বিশ্বাস। রানাঘাট থানার পুলিশ তদন্ত নেমে রবিবার রাতে অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ প্রায় দু’ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুরের ঘোড়ালিয়া নতুন পাড়ার বাসিন্দা মিন্টু বিশ্বাস নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশের এসআই হিসেবে পরিচয় দিত। সেই পরিচয় দিয়ে মানুষকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের টোপ দিত। রানাঘাটের চন্দ্রপুরের এক মহিলার অভিযোগ, মিন্টু ওই মহিলাকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ধাপে ধাপে প্রায় ছ’ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি না মেলায় ওই মহিলার সন্দেহ হয়। তিনি রানাঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিপদ বুঝে গা ঢাকা দিয়েছিল অভিযুক্ত যুবক। এর আগেও এলাকায় একাধিক মানুষের কাছ থেকে একইভাবে বিপুল পরিমাণে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গত কয়েক বছর ধরে সে এলাকা ছাড়া ছিল। মাস খানেক আগে সে শান্তিপুরের বাড়িতে ফিরে আসে। খবর পেয়ে রানাঘাট থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে ক্রমাগত জিজ্ঞাসাবাদ চালায় পুলিশ। গত রবিবার রাতে মিন্টু বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে রানাঘাট থানা ও শান্তিপুর থানার পুলিশ যৌথভাবে তার ঘোড়ালিয়া নতুন পাড়া এলাকার বাড়িতে হাজির হন। অভিযুক্তকে নিয়ে তার বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে উদ্ধার হয় নগদ ২ লক্ষ টাকা। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ মিন্টুকে নিয়ে রানাঘাট থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই যুবক নিজের এলাকাতেও একাধিক বেকার যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছিল। যদিও পরে কিছু টাকা ফেরত দেয় বলেও জানা যায়।
অভিযুক্ত মিন্টু বিশ্বাসের কাকা তথা বিজেপি নেতা দীপক বিশ্বাস বলেন, ‘তাঁর ভাইপো বেশ কয়েক বছর বাড়িতে ছিল না। সে কোথায় ছিল, তা বাড়ির লোকরাও কেউ জানত না। একমাস হল সে বাড়িতে ফিরেছে। কিছুদিন আগে পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়। আমরা মিন্টুর টাকা মেটানোর জন্য এদিক ওদিক থেকে ধারদেনা করেছিলাম। সেই টাকাই বাড়িতে ছিল। এদিন পুলিশ এসে সেটাও নিয়ে গেল। আমি চাই, আইন মাফিক যা শাস্তি পাওয়ার সেটাই সে পাক। কিন্তু পাশাপাশি যে মেয়েটি তাকে চাকরির জন্য টাকা দিয়েছে সেও সমান দোষী, তারও যেন উপযুক্ত শাস্তি হয়। তার ভাইপো কোনো চাকরি করে না, সে বেকার বলেও জানান তিনি।’
এলাকাবাসী গৌর বিশ্বাস বলেন, ‘কিছুদিন আগে ছেলেটিকে পুলিশে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তবে তিনি বলেন ছেলেটিকে দেখে বোঝা যাবে না যে, সে এরকম। যে কেউ কথা বললে বুঝবে যে মিন্টু ভদ্র ছেলে। এর আগে পাশের পাড়া থেকে নিয়েছিল, কিন্তু শুনেছি সেই টাকা সে ফেরত দিয়ে দিয়েছে।’