


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের ছবি বিকৃত করার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। অন্য রাজ্যের ঘটনাকে বাংলার বলে দেখানোর অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে যে ছবিগুলি প্রকাশ করা হয়, তার সঙ্গে বাংলার কোনও যোগ নেই জানিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেছে তারা। রাজ্যের শাসক দলের বিবৃতি, বিজেপি কেবলমাত্র ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর কারখানায় পরিণত হয়েছে। তাদের কাছে সত্যের কোনও মূল্য নেই। তারা শুধু সাধারণ মানুষের মৃতদেহের উপর রাজনীতি করতে চায়।
এদিন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়ার পেজে ৯টি ছবি প্রকাশ করা হয়। সেগুলি ছিল গণেশ চতুর্থী, সরস্বতী পুজো, রামনবমী, হোলি, দিওয়ালি, দুর্গাপুজো, হনুমান জয়ন্তী, দশেরা ও সংক্রান্তির। তারপরই তৃণমূল থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, ওইগুলির সঙ্গে বাংলার কোনও সম্পর্ক নেই। এই ছবিগুলি লখনউ, জলন্ধর, ম্যাঙ্গালোর, কর্ণাটক, উত্তপ্রদেশ ও অসমের। কোনও ছবিতে দেখা গিয়েছে, এনআরসির সময়ে অসমে যে প্রতিবাদ-আন্দোলন হয়েছিল, সেটাকেও বাংলার বলে দেখাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূলের বক্তব্য, অন্য রাজ্যের ছবিগুলিকে বিকৃত করে বাংলার নামে দেখিয়ে উস্কানির চেষ্টা করছে বিজেপি। বাংলার মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে মিথ্যা প্রচার আর হিংসা-অশান্তির নানা ধরনের প্লট তৈরি করেছে বিজেপি। এই সমস্ত ছবি কলকাতা ও রাজ্য পুলিসের নজরে এনেছে তৃণমূল। ওইসঙ্গে বিজেপি নেতাদের যেভাবে হুমকি দিচ্ছেন, অন্য রাজ্য থেকে বাংলায় লোক ঢুকিয়ে ঠান্ডা করে দেওয়া হবে, তার তথ্যও হাজির করেছে তৃণমূল।
এই প্রেক্ষাপটে আরও মারাত্মক একটি ঘটনাকে সামনে এনেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। মুর্শিদাবাদের ঘটনা প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, বিএসএফের একাংশের সহযোগিতায় হামলাকারীদের ঢুকিয়ে গণ্ডগোল করিয়ে আবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পিছনে একটি রাজনৈতিক দলের গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। যারা হামলা করেছে, তাদের চেনেন না এলাকার মানুষ। ফলে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা বলেন, বাংলার এখনকার পরিস্থিতি সকলের চোখের সামনে পরিষ্কার। আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে পারবে না তৃণমূল।
অন্যদিকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন ইমাম, মোয়াজ্জেমরা। এদিন কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে নাখোদা মসজিদের ইমাম মদম্মদ শফিক কাশমি বলেন, ওয়াকফ আইন প্রত্যাহার করতে হবে কেন্দ্রকে। তার জন্য আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হোক। সব ধর্মকে আমরা সম্মান জানাই। মহম্মদ বাকিবিল্লা বলেন, ওয়াকফ নিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন হোক। আইন হাতে তুলে নেবেন না কেউ। এমন কোনও কাজ করবেন না যাতে সমাজে অন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়।