


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: নির্বাচনি জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে বিঁধলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মহিলাদের গেরুয়া পার্টির তিন হাজারি টোপের ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলির সূচনা করতে পয়লা বৈশাখ পূর্ব বর্ধমানের কালনায় গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মমতার তোপ, নির্লজ্জ অর্থমন্ত্রী! ভোটের সময় দিল্লি থেকে এসে কার্ড বিলি করছেন। আগে মনে ছিল না? বাজেটে রাখেননি কেন? হিম্মত থাকলে বাজেটে রাখতেন। তা না রেখে ভোটের সময় বাংলায় কার্ড বিলি কেন? আমাদের দেখে শিক্ষা নিক। আমরা আগেই সবটা করে দিই। রণংদেহী মেজাজে মোদিকে আক্রমণ করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, আমাদের চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে! আমি প্রধানমন্ত্রীকে চার্জশিট দিচ্ছি। এখনই স্যাক করুন আপনার অর্থমন্ত্রীকে। বুধবার ওই ঘটনার পরই তৃণমূলের তরফে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারকে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছিলেন—ভোটারদের প্রভাবিত করতেই ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলি করা হচ্ছে। এতে লঙ্ঘিত হচ্ছে নির্বাচনি বিধি। ব্যবস্থা নেওয়া হোক নির্মলা সীতারামনের বিরুদ্ধে। তাতেও অবশ্য দমেনি বিজেপি। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর শহর সহ আরও কয়েকটি এলাকায় রীতিমতো ক্যাম্প করে তিন হাজারি টোপের ফর্ম বিলি এবং পূরণ করা ফর্ম জমা নেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পয়লা জুন মহিলাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকবে এই টাকা।
অপরদিকে, নির্বাচন আচরণ বিধি ভঙ্গ করে বিজেপির ফর্ম বিলিকে কেন্দ্রের ভাঁওতাবাজি বলে তোপ দাগেন তৃণমূল নেত্রী। বলেন, ভোটের সময় এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করা হচ্ছে। এটা ওদের আর একটা ভাঁওতা। চিটিংফান্ড। এটা হল ‘চিচিংফাঁক। কেউ যাতে বিজেপির বিলি করা ফর্ম পূরণ না করেন, সে ব্যাপারে বাংলার মানুষকে সতর্ক করেন মমতা। বলেন, এটা কী বলুন তো, এটা হল, আপনাকে দিয়ে আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর লেখাবে। তারপর যেই ভোট মিটে যাবে, দেবে তো না কিছুই। উল্টে আপনার যেটুকু টাকা ছিল, সেটাও লুট করে নেবে। তারপর বলবে, তোমার এখানে কালো টাকা কে ঢোকাল? তারপর পাঠাবে ইডি। তারপর পাঠাবে সিবিআই। তারপর পাঠাবে এনআইএ। তারপর বলবে, নাই নাই। খবরদার এই ভুলে পা দেবেন না। ওদের বিশ্বাস করবেন না। এ প্রসঙ্গে বিহারের উদাহরণ টানেন মমতা। বলেন, মহিলাদের ব্যবসা করার জন্য একবার বিহারে আট হাজার টাকা করে দিয়েছিল। তাই দেখে বিহারের মহিলারা সব ভোট দিয়ে দিল। আর তারপরই বুলডোজার চালাল। এখন বলছে, টাকা ফেরত দাও। বাংলায় এমনটা যে হয় না, তা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বলেন, আমরা এসব করি না। ৫০০ টাকা দিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুরু করেছিলাম। এখন দেড় হাজার ও ১৭০০ টাকা। দিল্লিতে কবে বলেছিল, মহিলাদের আড়াই হাজার টাকা করে দেবে। আজ পর্যন্ত দিয়েছে! কেউ পেয়েছে!